সিলেটে সিআইডি কর্মকর্তাকে ছুরি কাঘাত, ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার
সিলেটে সিআইডি কর্মকর্তাকে ছুরি কাঘাত, ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার
editor
প্রকাশিত ডিসেম্বর ৯, ২০২৫, ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ
Manual4 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
সিলেট সাইবার মামলায় পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি রহিম উদ্দিন রাজু (৩৩)-কে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাতে গ্রেফতারের সময় সিআইডির এসআই মো. খোরশেদ আলমের উপর হামলা করে তিনি পালিয়ে গেলেও মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) ভোর ৪টার দিকে এয়ারপোর্ট থানাধীন মজুমদারী এলাকার সৈয়দ বাড়িস্থ একটি মেস থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) বেলা আড়াইটার দিকে সিআইডি সিলেট মেট্রো ও জেলার এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ডিআইজি ড. মোহাম্মদ আল মামুনুল আনসারী।
Manual1 Ad Code
তিনি জানান, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপির) কোতোয়ালী মডেল থানার মামলা নং–০৭ (তারিখ: ০৪/১১/২০২৫), সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এর ১৭/১৯(১)(ক)/২৫ ধারার পলাতক আসামি রহিম উদ্দিন রাজুকে (৩৩) গ্রেফতার করতে সিআইডি সিলেট মেট্রো ও জেলার এসআই মো. খোরশেদ আলম ও কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন রিকুইজিশন নিয়ে কোতোয়ালী থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করছিলেন।
Manual1 Ad Code
অভিযানের এক পর্যায়ে রাত ৯টার দিকে আসামিকে ধরতে গেলে তিনি নিজের সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে এসআই খোরশেদ আলমের বাম বগলের নিচে আঘাত করেন। এতে প্রায় তিন ইঞ্চি গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং রাতেই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। ঘটনাস্থল থেকে আসামি রহিম উদ্দিন রাজু পালিয়ে যায়।
Manual2 Ad Code
এরপর সিআইডি, এসএমপি কোতোয়ালী ও এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের যৌথ অভিযান চলতে থাকে। অবশেষে মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) ভোর ৪টার দিকে নগরীর এয়ারপোর্ট থানাধীন মজুমদারী এলাকার সৈয়দ বাড়িস্থ একটি মেস থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর দেহ তল্লাশিতে তার কাছ থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য পরিচয়ে একটি ভিজিটিং কার্ড পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযানরত দলের সদস্যদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গ্রেফতার হওয়া আসামির দেখানো মতে খোরশেদ আলমকে আঘাতে ব্যবহৃত ছুরিটি সাগরদীঘি এলাকার সরকারি নালা থেকে ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, রহিম উদ্দিন রাজুর CDMS পর্যালোচনা করে দেখা যায় তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন, মারধর, শ্লীলতাহানি, ছিনতাই, হত্যা চেষ্টাসহ বিভিন্ন ধারায় মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। কোতোয়ালী মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা (২০১১), শাহপরাণ থানায় ৩৪২/৩২৩/৩৭৯/৫০৬/৩৪ ধারায় মামলা (২০২১), কোতোয়ালী থানায় ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৪ ধারায় মামলা (২০১৮), আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইনে মামলা (২০২২), কানাইঘাট থানায় ৩২৩/৩২৬/৩০৭/৩৭৯ ধারায় মামলা (২০১৭),কানাইঘাট থানায় ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩৫৪/৩৭৯/৩৮০/৪২৭/৫০৬ ধারায় মামলা (২০১৭)।
সংবাদ সম্মেলনে ডিআইজি ড. মোহাম্মদ আল মামুনুল আনসারী জানান, গ্রেফতারকৃত রাজুর বিরুদ্ধে কোতোয়ালি, শাহপরাণ ও কানাইঘাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন, আঘাত, চুরি, ব্ল্যাকমেইলিংসহ একাধিক মামলা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে—সে এক বাদীর ছবি এডিট করে অশ্লীল ছবিতে রূপান্তর করে যৌন হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইলিং করছিল। এ ঘটনায় সিআইডির কনস্টেবল জাকির হোসেন বাদী হয়ে নতুন অভিযোগ দাখিল করেছেন।
পুলিশ জানায়, পলাতক ও ঝুঁকিপূর্ণ আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি হামলার ঘটনায় নতুন মামলা রুজুর প্রক্রিয়াও চলছে এবং আক্রমণের উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা ও সহযোগীদের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।