গ্রিনল্যান্ড দখলে অনড় ট্রাম্প, ব্যর্থ হলো যুক্তরাষ্ট্র-ডেনমার্ক বৈঠক
গ্রিনল্যান্ড দখলে অনড় ট্রাম্প, ব্যর্থ হলো যুক্তরাষ্ট্র-ডেনমার্ক বৈঠক
editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৫, ২০২৬, ০৮:৪৬ পূর্বাহ্ণ
Manual4 Ad Code
ডিজিটাল ডেস্ক:
আর্কটিক অঞ্চলের কৌশলগত ভূখণ্ড গ্রিনল্যান্ড কিনে নেওয়া বা দখলে নেওয়ার পরিকল্পনা থেকে বিন্দুমাত্র সরে আসেননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
Manual7 Ad Code
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ওয়াশিংটনে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এক বৈঠক কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছে।
Manual2 Ad Code
বৈঠক শেষে ডেনমার্কের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড ‘জয়ের’ সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন, যা দুই মিত্র দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এই কূটনৈতিক অচলাবস্থার বিষয়টি উঠে এসেছে।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মটজফেল্ড বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে বসেন। দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্য নিয়ে এই বৈঠকের আয়োজন করা হলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
বৈঠক শেষে লার্স লোক্কে রাসমুসেন সাংবাদিকদের কাছে গভীর হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারিনি। এটি এখন স্পষ্ট যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড জয়ের ইচ্ছা মনেপ্রাণে পোষণ করছেন।’
Manual3 Ad Code
একই দিন হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের বিতর্কিত অবস্থানের পক্ষে পুনরায় জোরালো যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। মূল সমস্যা হলো, রাশিয়া বা চীন যদি গ্রিনল্যান্ড দখল করতে চায়, তবে ডেনমার্কের তা ঠেকানোর কোনো সক্ষমতা নেই। কিন্তু আমাদের সেই সক্ষমতা আছে।’ ট্রাম্প মনে করেন, আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় গ্রিনল্যান্ডের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা জরুরি।
অন্যদিকে গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মটজফেল্ড জানিয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী হলেও গ্রিনল্যান্ড কারও ‘সম্পত্তি’ হিসেবে বিক্রি হতে রাজি নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে মাত্র ৬ শতাংশ স্থানীয় বাসিন্দা যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।
Manual7 Ad Code
বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি থাকলেও ট্রাম্পের দাবি সেখানে পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেও মালিকানা হস্তান্তরের বাইরে অন্য কোনো প্রস্তাবে ট্রাম্প রাজি না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।