ভারতে নির্বাচনে যে ইতিহাস গড়লেন মুসলিম তরুণী ফাতিমা
ভারতে নির্বাচনে যে ইতিহাস গড়লেন মুসলিম তরুণী ফাতিমা
editor
প্রকাশিত মে ৫, ২০২৬, ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ
Manual3 Ad Code
নিউজ ডেস্ক:
কেরালার ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ইতিহাস গড়েছেন ৩৪ বছর বয়সী তরুণী আইনজীবী ফাতিমা তাহিলিয়া। বামপন্থীদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত পেরাম্ব্রা আসনে জয়ী হয়ে ভারতীয় ইউনিয়ন মুসলিম লীগের (আইইউএমএল) প্রথম নারী হিসেবে রাজ্য আইনসভায় নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন তিনি।
দীর্ঘদিনের বাম ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে তিনি সিপিআইয়ের (এম) জ্যেষ্ঠ নেতা ও এলডিএফ কনভেনর টি.পি. রামকৃষ্ণনকে পরাজিত করেন। তিনি মোট ৮১ হাজার ৪২৯ ভোট পেয়ে, ৫ হাজার ৮৭ ভোটের ব্যবধানে জয় পান। মঙ্গলবার (০৫ মে) ‘দ্য উইক’- এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয় এসব তথ্য।
এটি এলডিএফের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে একই আসনে রামকৃষ্ণন ২২ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছিলেন।
Manual8 Ad Code
তাহিলিয়ার এই জয় মালাবার অঞ্চলে ভোটারদের মনোভাবের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটি মুসলিম তরুণীদের জন্য নতুন আশার বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আইইউএমএলের নারী প্রার্থীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হতে পারে।
Manual2 Ad Code
ইতিহাস বলছে, আইইউএমএল খুব কমই নারী প্রার্থী দিয়েছে। অতীতে তারা সফলও হয়নি। ২০২৬ সালের আগে দলটি মাত্র দুইজন নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছিল— ১৯৯৬ ও ২০২১ সালে। দুজনই পরাজিত হন।
ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা তাহিলিয়া মুসলিম স্টুডেন্টস ফেডারেশনের (এমএসএফ) রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তিনি এর নারী শাখা ‘হারিতা’র প্রতিষ্ঠাতা রাজ্য সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১২ সাল থেকে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয়।
নির্বাচনী প্রচারে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে প্রবীণ ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। তাদের কল্যাণ ও জীবিকার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। গত ৩১ মার্চ পেরাম্ব্রায় তার পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেন রাহুল গান্ধী।
ত্রিশূরের সরকারি আইন কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর তিনি বর্তমানে কোঝিকোড জেলা আদালতে আইন পেশায় নিয়োজিত। ২০২০ সালে তিনি কোঝিকোড সিটি করপোরেশনের কুট্টিচিরা ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।
Manual6 Ad Code
সামাজিক সংস্কারের পক্ষে সোচ্চার তাহিলিয়া বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়েছেন। তিনি নারীর অধিকার নিয়েও কাজ করেছেন। হিজাবকে পরিচয়ের অংশ হিসেবে রক্ষা করার পক্ষে অবস্থান নেন এবং মুসলিম নারীদের শিক্ষার অধিকার নিয়েও সক্রিয় ছিলেন।
অভিজ্ঞতার অভাব নিয়ে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের প্রশ্নের মুখে পড়লেও তিনি নিজের অবস্থানে অটল ছিলেন।
এর আগে এমএসএফের জাতীয় সহ-সভাপতির পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, সংগঠনের কিছু জ্যেষ্ঠ নেতা নারীদের প্রতি অশালীন ভাষা ব্যবহার করেছেন। তারা নারীদের চুপ করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও তিনি জানান। ২০২১ সালের আগস্টে তার নেতৃত্বে একদল নারী এ বিষয়ে রাজ্য মহিলা কমিশনে অভিযোগ করেন।