বাবার সেই শেষ বিদায়ের খবরটিও ফাহাদকে পরিবার থেকে জানানো হয়নি, সে তা জানতে পারে তার এক পরিজনের ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে।
বাড়ি ফেরার পর ফাহাদ যখন মায়ের মুখোমুখি হয়, সেখানে এক ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়। নিজের স্বামীকে হারানোর শোকে স্তব্ধ মা ফাহাদকে সরাসরি এই মৃত্যুর জন্য দায়ী করে। তবে ৫২তম অর্থাৎ মেগা এপিসোডের অন্তিম পর্বে গল্পের ইতি এমন কষ্টদায়ক হবে, তা হয়তো কল্পনাও করেনি দর্শক। পর্বের শুরুতে ছিল বিয়ের আমেজ, উৎসবমুখর পরিবেশ। ফাহাদের ফুফুর বিয়েতে সবাই যখন আনন্দে মেতেছিল, তখনই ঘটে এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা।
সেই ভিডিও সায়রার নজরে আসতেই পুরো বিয়ে বাড়িতে বিশৃঙ্খলা শুরু হয়। সায়রা রাগের মাথায় সেই সহকর্মীকে চড় মারে এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। নিজের প্রিয় পুত্রবধূর এই কষ্ট সইতে না পেরে এবং পরিবারের এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে প্রচণ্ড মানসিক চাপে হার্ট অ্যাটাক করে মারা যান ফাহাদের মা-ও।
নির্মাতা মোস্তফা কামাল রাজ বলেছিলেন, ‘এটা আমাদেরই গল্প’, যা আমাদের সকলের পরিবারের সাথে মিশে থাকে। দর্শক ও সমালোচকদের মতে, এমন ঘটনা আমাদের সমাজের অনেক পরিবারেই ঘটে, যা হয়তো সবসময় সামনে আসে না। নাটকটি শেষ হলেও এর রেশ এখনও দর্শকদের মনে গেঁথে আছে। মুক্তির মাত্র ২১ ঘণ্টার মাথায় এটি ৯৮ লাখ ৩৫ হাজারেরও বেশি ভিউ পেয়েছে। বিশেষ করে শেষ দৃশ্যে সায়রার সংলাপ- ‘আর কী করলে আমাকে ভালোবাসবা?’ এবং মায়ের বলা শেষ কথাগুলো দর্শকদের হৃদয়ে নাড়া দিয়ে গেছে।
দার্শনিক দিক থেকে দেখলে, ফাহাদের চরিত্রটি যেন আমাদের সমাজের সেই সব মানুষের প্রতিচ্ছবি যারা নিজেদের অজান্তেই প্রিয়জনদের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এক ফাহাদের কারণেই আজ তার বাবা ও মা দুজনকেই হারাতে হলো। মানুষের ভুল বা আবেগের বশবর্তী হয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো মাঝেমধ্যে এমন এক জায়গায় নিয়ে যায়, যেখান থেকে আর ফেরার পথ থাকে না। ফাহাদের সামনে এখন শুধুই শূন্যতা। দিনশেষে দর্শকদের মনে এখন একটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে, ফাহাদ কি আদৌ কোনোদিন নিজেকে ক্ষমা করতে পারবেন?

ধারাবাহিকটিতে ফাহাদের মায়ের চরিত্রে মনিরা আক্তার মিঠুর অভিনয় ছিল চোখে পানি আসার মতো। দর্শকদের মতে, তিনি একজন জাত অভিনেত্রী। এছাড়া ফাহাদের চরিত্রে অভিনয় করা ইরফান সাজ্জাদ, খায়রুল বাসার, কেয়া পায়েল, সুনেরাহ বিনতে কামালসহ বাকিদের অভিনয় ছিল অনবদ্য।



