প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

১০ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৬শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৭শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত বিয়ানীবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুরবস্থা

editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৮, ২০২৬, ০৬:৪৩ অপরাহ্ণ
জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত বিয়ানীবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুরবস্থা

Manual4 Ad Code

 

# হাসপাতালটি একাধিকবার জাতীয় পুরস্কার পায়

Manual4 Ad Code

# ভবনের যত্রতত্র পড়ে থাকছে মেডিকেল বর্জ্য, আবর্জনা

# টয়লেটে ঢুকতেই দুর্গন্ধে বমির উপক্রম

 

মিলাদ জয়নুল:

ওয়ার্ডের মেঝেতে ব্যবহৃত টিস্যু, স্যালাইনের প্যাকেট, ব্যান্ডেজ, তুলা, যত্রতত্র আবর্জনা, অপরিচ্ছন্ন বিছানার চাদর, দেয়ালে থুতু কাশির দাগ, জরাজীর্ণ জানালা-দরজা, মশা-মাছির উপদ্রব, শৌচাগার থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। এমন চিত্র ৫০ শয্যা বিশিষ্ট বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। অথচ বিগত সময়ে হাসপাতালটি জরুরি প্রসূতিসেবা (মা ও শিশু) এবং স্বাস্থ্যসেবায় একাধিকবার জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছিল। বর্তমানে এই হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়ে রোগী ও স্বজনদের অভিযোগের অন্ত নেই।

Manual8 Ad Code

হাসপাতাল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার এ হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন ২০০-৩০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। জরুরি বিভাগের চিকিৎসা নেয় ১৫০-২০০ রোগী। অন্তর্বিভাগে ২০-২৫ জন রোগী ভর্তি হয়ে থাকেন। এ অবস্থায় রোগী ও স্বজন মিলিয়ে প্রতিদিন হাসপাতালে লোকের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৭০০-৮০০ জনে।

উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী অন্যান্য উপজেলার রোগীরাও জরুরি চিকিৎসায় বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে আসেন।

Manual5 Ad Code

এ হাসপাতালে ১৪টি শৌচাগার (টয়লেট) রয়েছে। এর মধ্যে অন্তর্বিভাগে নারী, পুরুষ, গাইনিসহ তিন ওয়ার্ডে ১০টি, জরুরি বিভাগে পাঁচটি এবং বহির্বিভাগে তিনটি টয়লেট। অভিযোগ রয়েছে, কর্তৃপক্ষের তদারকি ও সংস্কারের অভাবে টয়লেটগুলো গন্ধ উৎপাদনের স্থানে পরিণত হয়েছে। দিনে দুবার পরিষ্কার করার বিধান থাকলেও অনেক সময় তা একবারও করা হয় না।

সরেজমিন দেখা গেছে, হাসপাতালে রোগীদের ব্যবহারের সব টয়লেটই দুর্গন্ধযুক্ত ও স্যাঁতসেঁতে। দু’তলার পুরুষ ওয়ার্ডে তিনটি টয়লেট ও একটি গোসলখানার মেঝেতে ময়লা পানি জমে আছে। টয়লেটের প্রধান দরজার সিটকিনি ভেঙে যাওয়ায় নাইলনের দড়ি লাগিয়ে রাখা হয়েছে। টয়লেটে ঢুকতেই দুর্গন্ধে বমির উপক্রম হয়। পা ভিজে যায় জমে থাকা পানিতে। টয়লেটের ট্যাপসহ যাবতীয় উপকরণ নষ্ট।

আজিম নামের এক রোগী বলেন, টয়লেটের বিশ্রী অবস্থা, ভেতরে গেলে দুর্গন্ধে অস্থির লাগে, নোংরা পানি জমে থাকে। গোসল করার মতো বালতিও নেই।

সামছুল হক নামের আরেক রোগী বলেন, বাথরুম এতই নোংরা যে ভেতরে যেতে ইচ্ছে করে না।

রোগীর ওয়ার্ডের টয়লেটের পাশের বিছানায় পড়ে আছে ব্যবহৃত স্যালাইনের পরিত্যক্ত প্যাকেট। বিছানার দুটি চাদর ভীষণ নোংরা। হাসপাতালের দোতলায় নারী ওয়ার্ডের একই অবস্থা। টয়লেটে পানির ব্যবস্থা থাকলেও ভেতরে খুব দুর্গন্ধ। কয়েক রোগীকে নাক চেপে ভেতরে যেতে দেখা যায়। ওয়ার্ডের পাঁচটি বিছানার চাদরই নোংরা। এ ছাড়া কেবিনের তিনটি টয়লেটের অবস্থাও বেহাল। তিনটি টয়লেটেই ভালোমতো ফ্ল্যাশ হয় না। কমোডে ময়লা জমে থাকে।

কেবিনের একজন রোগী জানান, টয়লেটের অবস্থা এতই শোচনীয় যে ওপর থেকে বালতি কিংবা মগ দিয়ে পানি ঢেলে ময়লা পরিষ্কারের পর টয়লেট ব্যবহার করতে হয়।

Manual7 Ad Code

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেবিনে চিকিৎসাধীন এক রোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এত নোংরা অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, এটা হাসপাতাল না ভাগাড়।

নারী ওয়ার্ডের রোগী চম্পা খাতুন বলেন, হাসপাতালে রোগ সারাতে এসে নোংরা দুর্গন্ধময় পরিবেশে মনে হয় আমরা আবারও অসুস্থ হয়ে পড়ব। বিষয়গুলো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।

পুরস্কার পাওয়া হাসপাতালের এ হাল কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: মনিরুল হক খান বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি ভালো সেবা দিতে। তারপরও টয়লেটগুলোর এমন অবস্থা কেন বুঝতে পারছি না। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি রোগী ও তাদের স্বজনদের সচেতন হওয়া দরকার। কারণ তাদের অনেকেই ওয়ার্ডের ভেতরে ময়লা আবর্জনা, কাশি, থুতু ফেলেন।’ তবে তিনি হাসপাতালের বিদ্যমান সমস্যা শিগগির কর্তৃপক্ষকে জানাবেন বলে জানান।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১  

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code