পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ২২ সেনাসহ নিহত ২৫৫
পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ২২ সেনাসহ নিহত ২৫৫
editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬, ০৬:১০ পূর্বাহ্ণ
Manual2 Ad Code
নিউজ ডেস্ক:
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে টানা তিন দিন ধরে পরিচালিত ব্যাপক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ‘ভারত-সমর্থিত’ সশস্ত্র গোষ্ঠীর অন্তত ১৯৭ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। একই সময়ে অভিযানে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ২২ জন পাকিস্তানি সেনা। এছাড়া উভয় পক্ষের সংঘর্ষে শিশুসহ ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে এ সহিংসতায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫৫ জনে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৩১ জানুয়ারি প্রদেশজুড়ে সমন্বিত সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী এই অভিযান শুরু করে। ওইদিন বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) একযোগে প্রদেশটির অন্তত ১২টি শহর ও জনপদে হামলা চালায়। এতে প্রদেশজুড়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। ওই হামলায় ১৭ জন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।
Manual1 Ad Code
পরবর্তী দিনগুলোতে কোয়েটা, মাস্তুং, নুশকি, দালবান্দিন, খারান, পাঞ্জগুর, টুম্প, গোয়াদার ও পাসনিসহ বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালানো হয়। নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, গত তিন দিনে এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ মোট ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
হামলার পরপরই পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেলুচিস্তানজুড়ে ব্যাপক ক্লিয়ারেন্স অপারেশন শুরু করে। অভিযানের প্রথম ধাপে পাকিস্তান সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী ‘ভারত-সমর্থিত জঙ্গি’ হিসেবে চিহ্নিত ৯২ জন নিহত হয়, যাদের মধ্যে তিনজন আত্মঘাতী হামলাকারী ছিল।
Manual1 Ad Code
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং আইএসপিআর এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর সদস্যরা নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও শ্রমিকসহ অন্তত ১৮ জন নিরীহ নাগরিককে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। এসব হামলার মূল লক্ষ্য ছিল বেলুচিস্তানের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত করা।
আইএসপিআর আরও জানায়, নিরাপত্তা বাহিনী সাহসিকতা ও পেশাদার দক্ষতার মাধ্যমে জঙ্গিদের অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে। তবে তীব্র সংঘর্ষ ও দীর্ঘস্থায়ী মুখোমুখি লড়াইয়ে ১৫ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হন।
Manual3 Ad Code
পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে স্যানিটাইজেশন অপারেশন পরিচালনা করা হয়, যাতে হামলার পরিকল্পনাকারী, সহায়তাকারী ও মদদদাতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা যায়। আইএসপিআরের দাবি, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে যে এসব হামলার পরিকল্পনা পাকিস্তানের বাইরে অবস্থানরত জঙ্গি নেতারা করেছেন এবং হামলার সময় তারা সরাসরি হামলাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগে ছিলেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেলুচ লিবারেশন আর্মি বেলুচিস্তানে কর্মরত অন্যান্য প্রদেশের পাকিস্তানি নাগরিক ও বিদেশি জ্বালানি কোম্পানির ওপর হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। গত বছর সংগঠনটি একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে হামলা চালায়, যার জেরে টানা দুই দিন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।