কবুল বলার ২ ঘণ্টা পর স্বামীকে তালাক দিয়ে প্রেমিককে বিয়ে!
কবুল বলার ২ ঘণ্টা পর স্বামীকে তালাক দিয়ে প্রেমিককে বিয়ে!
editor
প্রকাশিত এপ্রিল ২১, ২০২৬, ১২:৪১ অপরাহ্ণ
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code
কটিয়াদি প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় এক নাটকীয় বিয়ের সাক্ষী হলো এলাকাবাসী। বিয়ের আসরে প্রেমিকের উপস্থিতিতে পাল্টে গেল সব হিসাব-নিকাশ। সৌদি প্রবাসী বরকে তাৎক্ষণিক তালাক দিয়ে পছন্দের মানুষের সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন কনে বন্যা আক্তার। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আচমিতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল হান্নান সোমবার রাতে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত শুক্রবার রাতে এই নাটকীয় ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের গনেরগাঁও গ্রামে।
Manual6 Ad Code
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গনেরগাঁও গ্রামের মেনু মিয়ার মেয়ে বন্যা আক্তারের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী পাকুন্দিয়া উপজেলার কলাদিয়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী মো. হৃদয় মিয়ার বিয়ে ঠিক হয়েছিল। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে শতাধিক মেহমান নিয়ে বর কনের বাড়িতে আসেন। ৬ লাখ টাকা দেনমোহরে কাবিননামা সম্পন্ন করে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাও শেষ হয়। তবে বিপত্তি বাধে বরযাত্রীদের আপ্যায়নের সময়। হঠাৎ মোটরসাইকেলে করে বিয়ের আসরে হাজির হন হোসেনপুর উপজেলার পানান গ্রামের যুবক মাসুদ মিয়া (২৪)। তিনি দাবি করেন, বন্যার সঙ্গে তার দীর্ঘ দুই বছরের প্রেমের সম্পর্ক। প্রমাণ হিসেবে মোবাইলে থাকা যুগল ছবি প্রদর্শন করেন তিনি।
Manual1 Ad Code
এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে কনেপক্ষের মারধরে মাসুদ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে তাকে উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে জ্ঞান ফেরার পর বিষয়টি জানাজানি হলে নববধূ বন্যা আক্তার সাফ জানিয়ে দেন, তিনি হৃদয় নয় বরং প্রেমিক মাসুদের সাথেই সংসার করতে চান। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দুই পরিবারের মধ্যে আলোচনার পর মানবিক দিক বিবেচনা করে প্রবাসী বর হৃদয় মিয়া নববধূকে ডিভোর্স দিতে রাজি হন। হৃদয় ও তার পরিবার বিয়ের গহনা ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে ওই রাতেই বিবাহস্থল ত্যাগ করেন। বিচ্ছেদ প্রক্রিয়ার পর রাত সাড়ে ৩টার দিকে একই আসরে ৪ লাখ টাকা দেনমোহরে মাসুদ ও বন্যার বিয়ে পড়ানো হয়। শনিবার সকালে প্রেমিকা থেকে স্ত্রীকে নিয়ে খুশি মনে নিজ বাড়ি হোসেনপুরে ফিরে যান মাসুদ।
Manual5 Ad Code
এ বিষয়ে বন্যা আক্তার বলেন, “মাসুদের সাথে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। পরিবারের চাপে পড়ে আমি প্রবাসীকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমি আমার ভালোবাসার মানুষের সাথেই থাকতে চাই।”
আচমিতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল হান্নান জানান, বিষয়টি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর হলেও উভয় পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে এর একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।