স্টাফ রিপোর্টার:
সিলেটে উপমহাদেশের প্রখ্যাত ইসলাম প্রচারক হযরত শাহজালাল (রহ.) এর ৭০৭ তম ওরশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সুফি ভাবধারার নানা ধর্মীয় আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহজালাল (রহ.)-এর দরগাহ প্রাঙ্গণ পরিণত হয়েছে দেশ-বিদেশ থেকে আগত হাজারো ভক্ত-অনুরাগীর মিলনমেলায়। ওরশ উপলক্ষে গিলাফ ছড়ানো, শান্তি মিছিল ও শিরনি বিতরণের মতো নানা আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করা হয়েছে। আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের আয়োজন। এতে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং বিশ্বশান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।সংবাদ বিশ্লেষণ সেবা
Manual7 Ad Code
জানা যায়, ১৩০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে সিলেটে আগমন ঘটে হযরত শাহজালাল রহমতুল্লাহি আলাইহির। তাঁর আগমনের পর এ অঞ্চলে ইসলাম প্রচারের ব্যাপক বিস্তার ঘটে এবং দলে দলে মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। প্রতি বছরের মতো এবারও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলসহ বিদেশ থেকেও হাজারো ভক্ত-অনুরাগী ওরশে অংশ নিতে সিলেটে এসেছেন। তারা নিজেদের পাশাপাশি দেশ ও জাতির শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় দোয়া করছেন। ওরশের অন্যতম আকর্ষণ ছিল রঙবেরঙের গিলাফ ছড়ানোর আনুষ্ঠানিকতা। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে গিলাফ ছড়ান সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি বলেন, হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর আদর্শ সম্প্রীতি ও মানবতার শিক্ষা দেয়। তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করলে সমাজে শান্তি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
মাজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের অংশগ্রহণে এই ঐতিহাসিক আয়োজন এখন এক সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। মাজারের খাদেম মো. সামুন মাহমুদ খান জানান, ওরশ উপলক্ষে খতমে সফিনা, কোরআনখানি ও গভীর রাত পর্যন্ত মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। ওরশের সব আনুষ্ঠানিকতা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছেন স্বেচ্ছাসেবকরাও।সিলেট ভ্রমণ গাইড
Manual6 Ad Code
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অফিসার মো. মঞ্জুরুল আলম বলেন, ভক্ত-অনুরাগীদের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভক্ত-অনুরাগীরা বলেন, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ-সংঘাত বন্ধ এবং সম্প্রীতি-সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়া সময়ের দাবি।