প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

১১ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৮শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৪শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

হাম রোগীদের চাপে হিমশিম খাচ্ছে শামসুদ্দিন হাসপাতাল, এক বেডে একাধিক রোগী

editor
প্রকাশিত মে ১১, ২০২৬, ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ণ
হাম রোগীদের চাপে হিমশিম খাচ্ছে শামসুদ্দিন হাসপাতাল, এক বেডে একাধিক রোগী

Manual2 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
হামের উপসর্গ থাকা নিজের ৬ মাস বয়সী ছেলেকে ভর্তি করাতে সিলেট শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন কোম্পানীগঞ্জের আশিকুর রহমান। কিন্তু হাসপাতালে কোন সিট খালি নেই। বেসরকারি হাসপাতালগুলোও হাম উপসর্গ থাকা রোগীদের ভর্তি নিচ্ছে না।

আশিকুর রহমান বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলছে। অথচ হাসপাতালে মাত্র ১০০ শয্যা আছে। একটা সিটও খালি নেই। এই অবস্থায় আমি ছেলেকে নিয়ে কোথায় যাবো?

হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির পর সিলেটের এই চিকিৎসা কেন্দ্রটিকে হাম ডেডিকেডেট হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। হাম আক্রান্ত ও উপসর্গ শিশুদের এই হাসপাতালেই ভর্তি করা হয়েছে। শামসুদ্দিন হাসপাতালে শয্যা আছে ১০০ টি। অথচ রোববার দুপুর পর্যন্ত ভর্তি রয়েছে ১২০ শিশু। ফলে একটি শয্যায় একাধিক শিশু ভর্তি রয়েছে। আর প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের জায়গা হচ্ছে মেঝেতে। এতে করে একজনের সংম্পর্শে অসুস্থ হয়ে পড়ছে অন্যজন।

সুয়েবুর রহমানও ছেলেও হামের উপসর্গ নিয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি। তার ছেলের জন্য যে বেড দেওয়া হয়েছে সেই বেডে ভর্তি আছে আরেক শিশু। ফলে দুই শিশুকেই একই বিছানায় থাকতে হচ্ছে।

Manual1 Ad Code

সুয়েবুর রহমান বলেন, আমার ছেলের হাম শনাক্ত হয়নি। উপসর্গ আছে। এখন পরীক্ষায় যদি দেখা যায় আমার ছেলের হাম নেই কিন্তু তার সাথে একই বিছনায় থাকা শিশুটির হাম রয়েছে, তাহলে একই বিছানায় থাকার ফলে তো আমার ছেলেও আক্রান্ত হয়ে পড়বে।

তিনি বলেন, এখানে এসে সুস্থ হওয়ার বদলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়ছে।

রোববার হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, পুরো হাসপাতালে কোন শয্যা খালি নেই। অনেকগুলো বেডে দুজন করে শিশু শুয়ে আছে। সাথে আছেন তাদের অভিবাবকরা। ফলে হাসপাতালটিতে একেবারে গাদাগাদি করা ভীড়।

হাসপাতালে কোন বেড খালি নেই জানিয়ে রোববার শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, রোগীর চাপ দিন দিন বেড়েই চলছে। অনেক বেডে দুজন বা তারও বেশি রোগী ভর্তি আছে। একারণে চিকিৎসক এবং নার্সরাও হিমশিম খাচ্ছেন। তবু আমরা সবাইকে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

এদিকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৩২ নম্বর ওয়ার্ডকে হামের রোগীদের জন্য প্রস্তুত করার পরিকল্পনা থাকলেও তা এখনো চালু হয়নি। ফলে আপাততহিাম রোগীদের চাপ সামলাতে হচ্ছে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকেই।

এ অবস্থায় শনিবার সকাল থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সিলেট বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে।

রবিবার স্বাস্থ্য বিভাগের সিলেট বিভাগীয় অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সিলেট বিভাগে নতুন করে মারা যাওয়া দুই শিশু হলো- হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার আবদুল্লাহপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে আকরামুল (৯ মাস) ও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ঘিলাছড়া গ্রামের ইমরান মিয়ার ছেলে সাইফান (৮ মাস)।

এর মধ্যে আকরামুল ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও সাইফান শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছে।

Manual8 Ad Code

স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রবিবার সকাল ৮টা থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘন্টায় নমুনা পরীক্ষায় হাম আক্রান্ত নতুন কোন রোগী সনাক্ত হননি। এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নমুনা পরীক্ষায় হাম আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছেন ১৪২ জন।

সিলেটে ল্যাব টেস্টের সুযোগ না থাকায় উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের হামের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কোন রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হলে তার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পরীক্ষা করে রিপোর্ট আনা হচ্ছে।

Manual1 Ad Code

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী গেল ২৪ ঘন্টায় সিলেটে আরও ১২২ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৫৪ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩৪ জন, ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৬ জন, দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬ জন, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন, নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ জন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন, পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২ জন এবং ১ জন করে ভর্তি হয়েছেন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

আর রবিবার সকাল পর্যন্ত বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যে ২৬৮ জন ভর্তি ছিলেন তার মধ্যে সর্বোচ্চ ১১৮ জন আছেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে।

এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৫৪ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২০ জন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৫ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ জন, ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন, রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭ জন, দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭ জন, উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ জন, বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন, আজমিরিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন, জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন, আল হারামাইন হাসপাতালে ২ জন, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ২ জন, নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২ জন, পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২ জন, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন এবং ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন ভর্তি আছেন।

Manual6 Ad Code

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code