নিজস্ব প্রতিবেদক :
ধর্ষনের চেষ্টাকালে অজ্ঞান হয়ে পড়ে চার বছরের শিশু ফাহিমা। এরপর গলাটিপে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর গুমের জন্য একটি শাল (চাদর) দিয়ে জড়িয়ে লাশ রাখা হয় একটি লাগেজে। এরপর লাশ একটি ডোবার পানিতে ফেললে সেটি ভেসে ওঠে। পরে ডোবা থেকে লাশ তুলে পুকুরপাড়ের বাঁশ ও নারিকেল গাছের ঝোঁপের নিচে ফেলে রাখা হয়।
হত্যাকান্ডের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত জাকির হোসেনের জবানবন্দির বরাত দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে এমন তথ্য জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
Manual5 Ad Code
এর আগে সোমবার রাতে পুলিশ জাকিরকে নিজবাড়ি সিলেট সদর উপজেলার সোনাতোলা পশ্চিমপাড়া থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের খবর পেয়ে বিক্ষুদ্ধ জনতা জালালাবাদ থানা ঘেরাও করে জাকিরের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। পরে তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন স্থানীয় লোকজন। মঙ্গলবার জাকিরকে আদালতে হাজির করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
Manual1 Ad Code
নিহত ফাহিমা আক্তার (৪) সোনাতলা পশ্চিমপাড়ার দিনমজুর রইসুল হকের মেয়ে। গ্রেফতারকৃত জাকির হোসেন একই গ্রামের মৃত তোতা মিয়ার ছেলে ও নিহত ফাহিমার প্রতিবেশি।
Manual5 Ad Code
পুলিশের কাছে শিশু ফাহিমাকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে জাকির হোসেনের দেওয়া বক্তব্যের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গত ৬ মে সকাল ১১টার দিকে জাকির তার বসতঘরে একা ছিল। এসময় ফাহিমার হাতে ২০ টাক দিয়ে বাড়ির সামনের দোকান থেকে ২টি সিগারেট আনতে পাঠায়। সিগারেট নিয়ে আসার পর সে ঘরের শয়নকক্ষ বন্ধ করে দিয়ে ফাহিমাকে ধর্ষনের চেষ্টা করে।
একপর্যায়ে ফাহিমা অজ্ঞান হয়ে পড়লে সে গলাটিপে তাকে হত্যা করে। পরে জাকির একটি শাল দিয়ে ফাহিমার মরদেহ জড়িয়ে লাগেজের ভেতর ঢুকিয়ে ঘরের একটি ক্যাবিনেটের উপর রাখে। পরে লাশটি লাগেজ থেকে বের করে শয়নকক্ষের খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে।
Manual1 Ad Code
৮ মে ভোররাত ৪টার দিকে জাকির লাশটি প্রতিবেশি নূরুল হকের মালিকানাধীন একটি ডোবার পানিতে ডুবিয়ে রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু লাশটি ভেসে ওঠায় সেটা পানি থেকে তুলে ডোবার পার্শ্ববর্তী বাঁশ ও নারিকেল গাছের ঝোঁপে রেখে দেয়। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। জেলার ইতিহাস
উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারের পর জাকিরের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মামলার আলামত হিসেবে টেকেরবাড়ি এলাকার একটি খাল হতে ফাহিমার লাশ গুমের চেষ্টায় ব্যবহৃত একটি শাল (চাদর) এবং বাড়ি থেকে একটি কালো সুটকেস ও খাটের নিচ থেকে রক্তমাখা বালি উদ্ধার করা হয়েছে।