প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

১৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৩০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সিলেটে ফাহিমা হত্যা: বেরিয়ে এল অজানা অনেক তথ্য

editor
প্রকাশিত মে ১৬, ২০২৬, ০৫:২০ পূর্বাহ্ণ
সিলেটে ফাহিমা হত্যা: বেরিয়ে এল অজানা অনেক তথ্য

Manual3 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
সিলেটে চার বছরের শিশু ফাহিমা হত্যার বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন ফাহিমার চাচা ইমাম আহমেদ। তার কথায় বের হয়ে এসেছে অনেক অজানা তথ্য। তার দেওয়া তথ্যমতে, হত্যাকাণ্ডটি জাকির একা ঘটিয়ে থাকলেও, লাশ গুমের চেষ্টায় পুরো পরিবারই জড়িত ছিল। এমনকি ফাহিমার পরিবারের মনযোগ অন্যদিকে ঘুরাতে চেষ্টা চালিয়ে গেছে জাকিরের বড় ভাই জয়নাল। অথচ জয়নাল ও ফাহিমার চাচা ইমাম আহমেদ পরস্পরের বন্ধু। দুই পরিবারের মধ্যেও ছিল বেশ ভাল সম্পর্ক।

Manual1 Ad Code

তিনি বলেন, আমি সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাই, এই পাষণ্ড জাকিরও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালায়। আমাদের বাড়ির পাশেই তার বাড়ি। তিনিসহ তার মা-ভাই-ভাবি সবাই নিয়মিত আমাদের বাড়িতে আসা যাওয়া করতেন। তার মা ঘুম থেকে উঠে প্রতিদিন এসে আমাদের বাড়িতে চা খেতেন। এই সম্পর্কের মধ্যেও জাকির আমার ভাতিজির সঙ্গে এ কাজ করবে আমরা কেউ ভাবতে পারিনি।

তিনি বলেন, ফাহিমা নিখোঁজের পর তাদের পরিবারের সবাই আমাদের সঙ্গে সঙ্গে থেকে ফাহিমাকে খুঁজেছেন, তাই তার পরিবার যে এ বিষয়ে জানে এটা আমাদের ধরনার বাইরে ছিল।

তিনি বলেন, যে ডোবার পাশে ফাহিমার মরদেহ পাওয়া গেছে সেটা অনেক নোংরা, সেখানে কেউ নামে না। কিন্তু ফাহিমাকে খুঁজতে জাকির এই নোংরা ডোবাতে নেমে যায়। তিনি যে খুনি সেটা যেন আমরা সন্দেহ না করি সেজন্য এসব করেছে। তার বড় ভাই জয়নালও সব জানতো, তার বড় ভাইয়ের সঙ্গে আমার চলাফেরা ছিল, কিন্তু তারপরও জাকিরের বড় ভাই আমাকে কিছু বলেনি। ফাহিমাকে যখন জাকির হত্যা করে তার মা তার ঘরে ছিল, তার বড় ভাইয়ের বউ ছিল, তারা সব জানতো কিন্তু কেউ একবারও আমাদেরকে কিছু বলেনি, শুধু জাকিরের বউ ঘরে ছিল না। এ ছাড়া তার পরিবারের সবাই এ ঘটনায় জড়িত।

Manual1 Ad Code

ইমাম আহমদ বলেন, জাকিরের পাশাপাশি তার ভাই জয়নালও যে জড়িত সেটা আমি বুঝতে পেরেছি জালালাবাদ থানার ওসি সাহেব যখন আমার সঙ্গে কথা বললেন তখন। ওসি সাহেব আমাকে ডাকিয়ে নিয়ে জিজ্ঞেস করেন আমরা কাউকে সন্দেহ করছি কি না। তখন আমি ওসি স্যারকে বললাম আমাদেরতো শত্রু নাই কার নাম দিমু। তখন তিনি আমার কাছে জানতে চাইলেন জাকিরকে চিনি কি না। আমি বললাম জাকির আমাদের এলাকার ভাই। তিনি তো সবসময় আমাদের সঙ্গে ছিল তাকে কীভাবে সন্দেহ করব? তখন তিনি বললেন জাকিরকে তার সঙ্গে দেখা করিয়ে দিতে।

Manual2 Ad Code

তখন জাকিরের ভাই জয়নালকে আমি গিয়ে বলি ওসিয়ে সন্দেহ করছেন তর ভাইকে, তর ভাই কই? তিনি বলেন, আমি জানি না, ২০ মিনিট পর আমি তারে আবার জিজ্ঞেস করি তর ভাই কই? তিনি বলেন তার ভাই গাড়ি চালাতে গেছে। এর আধাঘণ্টা পর জয়নাল তার ঘরে গিয়ে দরজা খুলে তার মাকে বলে, তোমাদের বললাম তাদের চোখের সামনে থাকতে। তাদের সঙ্গে সঙ্গে থাকতে, জাকির কই তারে ডাকো। এ সময় জাকিরকে ঘুম থেকে ডেকে নিয়ে এসে তার ভাই বলে, তরে বলছি তাদের চোখের সামনে থাকবি যেন তারা সন্দেহ করতে না পারে। এ সময় আমি তার পেছনে দাঁড়ানো, এসব কথা শোনার পর আমি ওসির কাছে গিয়ে বলছি জাকির ঘরে আছে এবং তারা এরকম কথা বলছে। পরে ওসি সাহেব বলছেন আমি যেন আর কাউকে কিছু না বলি, এর আধাঘণ্টা পরই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

জাকির ও তার পরিবারের সদস্যদের দায়ী করে ফাহিমার চাচা বলেন, জাকির আমার ভাতিজিকে একলা খুন করেছে, কিন্তু খুনের পরে মরদেহ গুম করার জন্য তার পরিবারের সবাই তাকে সাহায্য করেছে, এটা আমরা পরে বুঝতে পেরেছি। তার বড় ভাই সব জানার পরও আমাদেরকে উৎসাহ দিয়েছে ফাহিমাকে খোঁজার জন্য। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। সে সব সময় আমাদের সঙ্গে ছিল। আমরা যখন কালেঙ্গা পাহাড়ে ফাহিমাকে খুঁজতে যাই তখনও তিনি আমাদের সঙ্গে ছিলেন। আমরা কী করছি কাউকে সন্দেহ করছি কি না তিনি এটা নজরে রাখতেন। পরে আমরা শাহজালালের দরগাতে খুঁজতে যাই, এরপর যাই ডলিয়াতে সেখানে খুনি জাকিরও আমাদের সঙ্গে ছিল, সেদিন ভোররাতে আমরা বাড়ি ফিরি। ওইদিনই সকালে আমাদের পাশের বাড়ির ভাবি বাথরুমে গেলে ফাহিমার মরদেহ দেখতে পান। ভাবির ঘরের ১০০ গজের মধ্যে মরদেহ দেখে আমরা হতবাক হই, এখানে মরদেহ থাকার কথা না কারণ ২০ মিনিট আগেও আমরা এই জায়গায় ছিলাম।

তার বড়ভাই জয়নাল প্ল্যান করে আমাদের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরিয়েছে উল্লেখ করে ইমাম আহমদ বলেন, তার বড় ভাই বিভিন্ন মানুষের নাম দেয়, ফাহিমাকে খোঁজার জন্য। কিন্তু তার ঘরে যে আসামি, তার ভাই যে মেরেছে ফাহিমাকে এটা বলে না। মরদেহ পাওয়ার পরও তার বড় ভাই বলে ফাহিমার মরদেহ ওই জায়গা ফোলা কেন, ওই জায়গার মাংস নাই কেন, ওই হাড্ডি নাই কেন, এভাবেই তিনি আমাদের মনোযোগ অন্যদিকে ঘুরানোর চেষ্টা করেন। আমরা চাই জাকিরের যেন ফাঁসি হয় এবং তার পুরো পরিবার যেন শাস্তি পায়।

Manual3 Ad Code

উল্লেখ্য, গত সোমবার (১১ মে) রাতে ফাহিমার হত্যাকারী জাকিরকে গ্রেপ্তার করেছে জালালাবাদ থানা পুলিশ।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code