স্টাফ রিপোর্টার:
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল বারিক ফেসবুক লাইভে এসে পুলিশি নির্যাতন, হামলা ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে তার দোকানে একাধিকবার পুলিশ অভিযান চালানো হয়েছে এবং তার দুই ছেলে ও ভাতিজাকে আটক করে নির্যাতনের পর মিথ্যা মামলায় জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
ফেসবুক লাইভে আব্দুল বারিক বলেন, গত ১৭ বছর ধরে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন এবং এ কারণে তিনবার কারাবরণও করেছেন। তিনি দাবি করেন, দেশের মানুষের শান্তি ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতেই তিনি আন্দোলন করেছেন।
Manual5 Ad Code
তিনি বলেন, আমরা বিএনপি করেছি বলে কি অন্যায় করেছি? আওয়ামী লীগের সময়ও এত নির্যাতনের শিকার হইনি। এখনো যদি জেল-জুলুম আমাদের কপালে থাকে, তাহলে আর কী করার আছে।
বারিক অভিযোগ করেন, মাদকবিরোধী অভিযানের নামে তার ছেলের কসমেটিকস দোকানে পুলিশ অভিযান চালালেও কোনো মাদক উদ্ধার করতে পারেনি। এরপরও তার দুই ছেলেকে মারধর ও আটক করা হয়।
Manual4 Ad Code
তিনি বলেন, আমার ছেলেরা কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়। তারা সিগারেট পর্যন্ত খায় না। অথচ তাদের রাতের বেলায় হাজত থেকে বের করে মারধর করা হয়েছে।
লাইভে তিনি সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। একইসঙ্গে অভিযোগ করেন, এলাকায় কিছু আওয়ামী লীগ সমর্থক পরিকল্পিতভাবে তাকে ও তার পরিবারকে হয়রানি করছে।
Manual3 Ad Code
এদিকে, তাহিরপুর উপজেলা যুবদল এক প্রতিবাদলিপিতে আব্দুল বারিক, তার ভাই, দুই ছেলে ও ভাতিজাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে ‘মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক’ দাবি করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
গত শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো ওই প্রতিবাদলিপিতে নেতারা বলেন, রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতেই এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। একইসঙ্গে পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তারা।
প্রতিবাদলিপিতে অবিলম্বে সকল ‘মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা’ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা ও হয়রানিমূলক কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানানো হয়।
Manual3 Ad Code
তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা হামলার শিকার হন। এতে একজন পুলিশ সদস্য আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে সাতজনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। দোকানে কোনো মাদক উদ্ধার করা যায়নি, তবে জুয়া খেলার কিছু উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে।