নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ থানাধীন গোপাল এলাকায় ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনায় আটককৃত দুই যুবকের আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন স্থানীয় জনতা। শুক্রবার (২২ মে) রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
Manual2 Ad Code
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গোপাল এলাকায় সালমান শাহ ও আলী হোসেনের মাটির বেড়া ও উপরে ছনের চালা সম্বলিত একটি আস্তানা ছিল। যেখানে তারা জুয়া খেলা, মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়াতো। শুক্রবারও (২২ মে) সন্ধ্যায় প্রতিবেশী পরিচয়ের সূত্রে কিশোরীকে ওই ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার সময় সেখানে আরও একজন উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করেন। পরে এই ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে উত্তেজিত জনতা তাদের আস্তানায় গিয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়।
Manual2 Ad Code
পুলিশ জানায়, শুক্রবার (২২ মে) সন্ধ্যায় প্রতিবেশী পরিচয়ের সূত্রে কিশোরীকে একটি ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার সময় সেখানে আরও একজন উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ এসে তাদের হেফাজতে নেয়। সদর উপজেলার গোপাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। একইসঙ্গে ভুক্তভোগী কিশোরীকে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার জন্য ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এর ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। আটককৃত দুজনের মধ্যে একজন ভুক্তভোগীর দূরসম্পর্কের চাচা। ওই ব্যক্তির মাধ্যমে আরেক অভিযুক্তের সঙ্গে কিশোরীর পরিচয় ও যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল বলে পুলিশ জানায়। শনিবার (২৩ মে) দুপুরে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে আটককৃত দুজনকে আসামী করে জালালাবাদ থানায় মামলা দায়ের করেন কিশোরীর মা। পরে আটককৃত সালমান শাহ (৩২) ও আলী হোসেন (৩০) ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব। তিনি বলেন, ‘স্থানীয়দের হাতে আটককৃত যুবকদের পুলিশী হেফাজতে নেওয়া হয়। রাতে স্থানীয়রা মিলে যুবকের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এদিকে শনিবার কিশোরীর মা ধর্ষণের অভিযোগ এনে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পরে আটককৃত সালমান শাহ (৩২) ও আলী হোসেন (৩০) ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। কিশোরী ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন। ওসিসি থেকে কিশোরীর রিপোর্ট আসার পর বিস্তারিত জানা যাবে।’