নিজস্ব প্রতিবেদক :
আসাদুল আলম বাপ্পি। বয়স ২২ বছর। এই বয়সেই অপরাধ জগতের হোতা। তার বিরুদ্ধে থানায় রয়েছে একাধিক মামলা। পুলিশের খাতায়ও সে অপরাধী। মাদক ব্যবসা, চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধের জন্য বাপ্পীর রয়েছে নিজস্ব সিন্ডিকেট। সেই সাথে রয়েছে তার কিশোর গ্যাং। পকেটে সবসময় ছোরা নিয়ে ঘুরে বেড়াত সে। তার জন্য নাজেহাল কাজীরবাজারসহ আশপাশের এলাকার মানুষজন।
Manual6 Ad Code
সব অপরাধ ছাপিয়ে এবার বাপ্পী সিলেটে র্যাব সদস্য ইমন হত্যার দায়ে কারাবন্দি। ইমন আচার্য নিহতের ঘটনায় সুজিত আচার্য বাদী হয়ে শনিবার এসএমপির কোতোয়ালি থানায় বাপ্পীকে প্রধান আসামী করে মামলাটি দায়ের করেন।
Manual2 Ad Code
এদিকে, ঘাতক বাপ্পী নগরীর কাজিরবাজার এলাকার মোগলটুলা ২৪ নং বাসার বাসিন্দা ও ১৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হোসেনের ছেলে।
জানা গেছে, আসাদুল আলম বাপ্পি ২০২৪ এর ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে সে পিতার দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ছিনতাই, মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্ম করে আসছিলো। তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় ধর্ষণ, ছিনতাই ও মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
কোতোয়ালি থানার ওসি খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির বলেন, বাপ্পী সিলেটের চিহ্নিত অপরাধী। সে মাদক ও ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত। তার বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণ, ছিনতাই ও মাদকের চারটি মামলা রয়েছে। ইমন হত্যার দায় স্বীকার করে বাপ্পী আদালতের বিচারকের সামনে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী দিয়েছে।
পুলিশ জানায়,
জানা যায়, শুক্রবার নগরীর কিনব্রিজ এলাকায় মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের ধাওয়া চলাকালে সাদা পোশাকে থাকা র্যাব সদস্য ইমন আচার্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করতে এগিয়ে এসে আসাদুল আলম বাপ্পিকে ঝাপটে ধরেন। এসময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বাপ্পি ধারালো অস্ত্র দিয়ে ইমনের বুকের বাম পাশে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
Manual5 Ad Code
ঘটনার পরপরই বাপ্পিকে আটক করে পুলিশ এবং তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করা হয়। হামলার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত বাপ্পি একটি এলাকায় বাসার ভেতরে ঢুকে এক শিশুর গলায় ছুরি ধরে জিম্মি করার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযানে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।