স্পোর্টস ডেস্ক:
বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে প্যারাগুয়ের বিদায়ের পর কিলিয়ান এমবাপ্পেকে নিয়ে বর্ণবাদী মন্তব্য করে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়া প্যারাগুয়ের সিনেটর সেলেস্তে আমারিলা এবার উল্টো ফরাসি এই তারকার বিরুদ্ধেই মানহানি ও অপবাদের অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা বিবেচনা করছেন। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ফ্রান্সে তার বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।
Manual2 Ad Code
স্প্যানিশ দৈনিক ‘মার্কা’ এবং ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘লে প্যারিসিয়েন’এর তথ্য অনুযায়ী, সিনেটর আমারিলার আইনজীবী গুইলার্মো দুয়ার্তে কাকাবেলোস বলেছেন, এমবাপ্পে প্রকাশ্যে তার মক্কেলকে নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, সেটি প্যারাগুয়ের আইনে মানহানি ও অপবাদের অভিযোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে কি না, তা তারা খতিয়ে দেখছেন।
লে প্যারিসিয়েনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্যারাগুয়ের আদালত যদি অভিযোগ গ্রহণ করে, তাহলে এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির বিষয়টিও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় ৪ জুলাই অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ফ্রান্সের কাছে প্যারাগুয়ের পরাজয়ের পর। ম্যাচ শেষে সিনেটর সেলেস্তে আমারিলা এমবাপ্পের জাতীয়তা, পরিচয় ও বংশপরিচয় নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেন, যেগুলোকে ব্যাপকভাবে বর্ণবাদী ও বৈষম্যমূলক বলে সমালোচনা করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গন সবখানেই তার বক্তব্যের নিন্দা জানানো হয়।
Manual1 Ad Code
এর জবাবে এমবাপ্পে প্রকাশ্যে সিনেটরকে ‘নিজের পদমর্যাদার অযোগ্য এক জঘন্য নারী’ বলে মন্তব্য করেছেন বলে দাবি করেছেন আমারিলার আইনজীবী। সেই বক্তব্যকেই সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে এমবাপ্পের বিরুদ্ধে মামলা হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত নয়। দুয়ার্তে কাকাবেলোস বলেন, ফ্রান্সে আমারিলার বিরুদ্ধে যে তদন্ত চলছে, তার ফলাফলের ওপরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে। তিনি বলেন, যদি ফরাসি কর্তৃপক্ষের তদন্ত আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়ায় গড়ায়, তাহলে তার মক্কেলও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেবেন।
পেনাল্টি মিস, তবুও রেকর্ডের মালা এমবাপ্পের গলায়
ফরাসি কর্তৃপক্ষ বর্তমানে তদন্ত করছে, সিনেটর আমারিলা তার বক্তব্যের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে তার প্রকৃত বা ধারণাকৃত জাতিগত পরিচয়, জাতীয়তা, বর্ণ কিংবা ধর্মের ভিত্তিতে প্রকাশ্যে গুরুতরভাবে অপমান করেছেন কি না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ৪৫ হাজার ইউরো জরিমানার বিধান রয়েছে।
এদিকে সমালোচনার মুখেও নিজের বক্তব্য থেকে সরে আসার কোনো ইচ্ছা নেই বলে জানিয়েছেন আমারিলা। তার আইনজীবীর দাবি, সিনেটর মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার প্রয়োগ করেছেন। তিনি প্যারাগুয়ে রাষ্ট্র বা সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং একজন সাধারণ নাগরিক এবং জাতীয় ফুটবল দলের সমর্থক হিসেবে ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করেছেন।
আইনজীবী আরও বলেন, মামলা এগোলে এমবাপ্পেকেও প্যারাগুয়ের কর্তৃপক্ষের সামনে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য তলব করা হতে পারে।
বিতর্কটি শুধু ক্রীড়াঙ্গনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, দু’দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বও এ নিয়ে অবস্থান জানিয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ প্রকাশ্যে বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হওয়া এমবাপ্পের প্রতি সমর্থন জানান। অন্যদিকে প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা স্পষ্ট করে বলেন, সিনেটর আমারিলার বক্তব্য প্যারাগুয়ের রাষ্ট্র বা জনগণের মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করে না।
Manual8 Ad Code
তীব্র সমালোচনার মধ্যেও চলতি সপ্তাহে সিনেটে আনুষ্ঠানিকভাবে তিরস্কৃত হওয়ার পর আবারও বিতর্কিত মন্তব্য করেন আমারিলা। তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্বকাপে ফ্রান্সের জয়ের পর এমবাপ্পে অহংকারী ও অসম্মানজনক আচরণ করেছেন। তার দাবি, ম্যাচ শেষে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলের সঙ্গে করমর্দন করতেও অস্বীকৃতি জানান ফরাসি তারকা।
নতুন এই অভিযোগ ও সম্ভাব্য পাল্টা মামলার ইঙ্গিতের ফলে সেলেস্তে আমারিলা ও কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও জটিল ও আলোচিত হয়ে উঠেছে।