নিউজ ডেস্ক :
সপ্তম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রীকে (১৩) ধর্ষণের মামলায় আসামি আলম মণ্ডলকে (৫৫) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) বেলা ৩টার দিকে জয়পুরহাটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের (জেলা ও দায়রা জজ) বিচারক মো. আব্দুর রহমান আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
Manual4 Ad Code
দণ্ডপ্রাপ্ত আলম মণ্ডল জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার পালশা গ্রামের মৃত কফিল উদ্দীনের ছেলে। পেশায় তিনি একজন কৃষক। রায় ঘোষণার পর কঠোর পুলিশ পাহারায় আলম মণ্ডলকে জয়পুরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
Manual7 Ad Code
আসামির মৃত্যুদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট রিনাত ফেরদৌস রিনি।
Manual2 Ad Code
আদালত ও মামলার বিবরণীতে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৯ অক্টোবর দুপুরে মাদ্রাসা ছুটির পর নিজ বাড়িতে ফেরে ওই শিক্ষার্থী। তার বাবা পেশায় একজন ভ্যানচালক, তিনি সকালেই ভ্যান নিয়ে কাজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যান। দুপুরের দিকে মেয়েটির মা বাড়ির গবাদি পশু আনতে মাঠে যান। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে আলম মণ্ডল ঘরে ঢুকে মেয়েটিকে একা পেয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় মেয়েটির চিৎকারে প্রতিবেশী এক গৃহবধূ এগিয়ে এলে আলম মণ্ডল দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরে অসুস্থ অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে জয়পুরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে আলম মণ্ডলকে একমাত্র আসামি করে আক্কেলপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আক্কেলপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম রব্বানী তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর আসামি আলম মণ্ডলের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন আদালত রাষ্ট্রপক্ষের ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও প্রমাণ গ্রহণ করেন।
এর আগে আসামি আলম মণ্ডল জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এই রায় প্রদান করেন।
Manual6 Ad Code
রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত থাকা মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আমরা আজ কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার পেয়েছি। আদালতের এই রায়ে আমরা অত্যন্ত খুশি। এখন আমাদের একমাত্র দাবি, ওই ব্যক্তির ফাঁসির রায় যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়।