এবার আর ‘ভুল’ নয়, যেসব বিষয়ে প্রাধান্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি বানাবে বিএনপি
এবার আর ‘ভুল’ নয়, যেসব বিষয়ে প্রাধান্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি বানাবে বিএনপি
editor
প্রকাশিত জুলাই ২৬, ২০২৬, ০১:১৩ অপরাহ্ণ
Manual7 Ad Code
প্রজন্ম ডেস্ক:
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরে সংসদ অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কথা জানিয়েছে সরকার। এদিকে বিএনপি বলছে, দলীয় ফোরামে আলোচনা করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্রের দাবি, এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে অরাজনৈতিক নয়, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিকেই প্রাধান্য দিতে চায় বিএনপি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একটি সূত্র জানায়, এক-এগারোর সময় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহমদ অরাজনৈতিক ব্যক্তি হওয়ায় রাজনৈতিক সংকট দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করতে পারেননি; এমন মূল্যায়ন দলের ভেতরে রয়েছে। ভবিষ্যতে সম্ভাব্য যেকোনও সংকট বিবেচনায় রেখেই এবার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কাউকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখতে চায় দলটি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রটি জানায়।
জানতে চাইলে বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি বলেন, ‘পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, সে বিষয়ে বলতে পারবো না। এ বিষয়ে দলের ফোরামে সিদ্ধান্ত হবে। দলের যেকোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সর্বোচ্চ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আশা করি তিনি গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির ব্যক্তিকেই বেছে নেবেন।’
তিনি বলেন, ‘এতটুকু বলতে পারি, বিতর্কিত কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না।’
Manual4 Ad Code
৯০ দিনের আগেই নির্বাচন চায় বিএনপি
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার তারিখ থেকে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বিধান রয়েছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকলেও নির্বাচন কমিশন মনোনয়নপত্র দাখিল, যাচাই-বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং প্রয়োজনে ভোটগ্রহণের সময় নির্ধারণ করে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে পারবে।
১৯৯১ সালের সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের অনুমোদনের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সরকারি গেজেটে নির্বাচনের তফসিল প্রকাশ করবেন। একই সঙ্গে তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন।
তবে বিএনপির একটি সূত্র জানায়, দলটি ৯০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চায় না। যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন সম্পন্ন করার পক্ষেই তারা। কারণ সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন রয়েছে। পাশাপাশি প্রধান বিরোধী দল জামায়াত এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৎপরতাও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। তাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঝুলিয়ে রেখে সময় নষ্ট করতে চায় না বিএনপি।
এরই মধ্যে শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, আগামী সেপ্টেম্বরে সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। তার মতে, এই মুহূর্তে বিশেষ অধিবেশন ডেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার মতো পরিস্থিতি হয়নি।
Manual6 Ad Code
রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকেই গুরুত্ব
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক যুগ্ম মহাসচিব বলেন, এবার রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি একজন ক্যারিয়ারসম্পন্ন রাজনীতিবিদকে দেখতে চায়।
তিনি বলেন, এক-এগারোর সময় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহমদ অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। সে সময় উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি তিনি শক্তভাবে মোকাবিলা করতে পারেননি। ফলে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ চলে গিয়েছিল সেনাবাহিনীর হাতে। ওই ঘটনার খেসারত বিএনপিকেও দিতে হয়েছে। মাঠের রাজনীতিতে অভিজ্ঞ কেউ দায়িত্বে থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত বলেও তার অভিমত।
তার দাবি, সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার আর একই ভুল করতে চায় না বিএনপি।
দলীয় সূত্রের ভাষ্য, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে ঘুরেফিরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া প্রবীণ নারী নেত্রী হিসেবে স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানের নামও আলোচনায় এসেছে। অন্যদিকে, কয়েকজন সাবেক আমলার নাম উঠলেও তাদের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে সূত্রটির দাবি।
বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের ক্ষেত্রে বিএনপি অবশ্যই যোগ্য ব্যক্তিকেই বেছে নেবে। কে মনোনয়ন পেতে পারেন, সেটা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে রাজনৈতিক অভিজ্ঞ সিনিয়র নেতাদেরই প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার দলের হাইকমান্ডের।’
Manual7 Ad Code
সম্ভাব্যদের প্রোফাইল প্রধানমন্ত্রীর হাতে
বিএনপির মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য নেতাদের প্রোফাইল ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর হাতে পৌঁছেছে। তাদের একাডেমিক, সাংগঠনিক ও কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সর্বোচ্চ যোগ্যতা সম্পন্নদেরই প্রাধান্য দেওয়া হবে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে।
শনিবার (২৫ জুলাই) বগুড়ায় এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন বা প্রার্থী বাছাই কীভাবে হবে, তা বলতে পারবো না। সংবিধান অনুযায়ী বিএনপি সিদ্ধান্ত নেবে।’
Manual7 Ad Code
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে অচিরেই দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।