প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৪ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

খাদ্য মজুদের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে সরকার

editor
প্রকাশিত জুলাই ২৮, ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ
খাদ্য মজুদের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে সরকার

Manual7 Ad Code

 

Manual6 Ad Code

প্রজন্ম ডেস্ক:

দেশে খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত ও অত্যন্ত সন্তোষজনক সরকারি মজুদ রয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গত সোমবার পর্যন্ত দেশের সরকারি গুদামগুলোতে চাল, গম ও ধান মিলিয়ে ফ্লোটিং মজুদসহ মোট ২৩ লাখ ৭৪ হাজার ৭৬৩ মেট্রিকটন খাদ্যশস্য রয়েছে।

সাধারণত বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্য মজুদের সর্বনিম্ন পরিমাণ ধরা হয় ১৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিকটন। বর্তমান মজুদ নিরাপদ সীমার চেয়ে প্রায় ১০ লাখ ২৪ হাজার টন বেশি, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত সুদৃঢ় থাকার প্রমাণ দেয়। এদিকে বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশব্যাপী সরকারি খাদ্য সংরক্ষণাগারের ক্যাপাসিটি (ক্ষমতা ও মজুদের সার্বিক পরিমাণ) আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ৩৪ লাখ মেট্রিকটনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে খাদ্য মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে।

Manual2 Ad Code

খাদ্য অধিদফতরের চলতি বছরের গতকাল সোমবার পর্যন্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন মতে, সরকারি গুদামে বর্তমানে ১৯ লাখ ৬০ হাজার ৭৪৬ মেট্রিকটন চাল এবং ২ লাখ ৯৫ হাজার ৬৮৯ মেট্রিকটন গম মজুদ রয়েছে। এ ছাড়া ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬০৫ মেট্রিকটন ধান মজুদ রয়েছে, যা চালের আকারে হিসেব করে (১০০ কেজি বা ১০০ মণ ধান প্রসেসিং/ভাঙালে পরিমাপের ভিত্তিভেদে ৬৫ কেজি/মণ বা ৩৯.৬০ কেজি/মণ চাল পাওয়া যায়) মোট মজুদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ফ্লোটিং চালের মজুদ দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৭৩৫ মেট্রিকটনে।

চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহ অভিযানে ২৩ জুলাই পর্যন্ত সর্বমোট ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৪৩১ মেট্রিকটন ধান ও চাল সংগৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে ৪ লাখ ৫৯ হাজার ৪৯৮ মেট্রিকটন ধান, ৯ লাখ ৮৯ হাজার ৪২০ মেট্রিকটন সেদ্ধ চাল এবং ৭৬ হাজার ৮১৪ মেট্রিকটন আতপ চাল রয়েছে। এ সময়সীমার মধ্যে সর্বমোট ৫২৩ মেট্রিকটন গম সংগৃহীত হয়েছে।

Manual6 Ad Code

এদিকে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ২৩ দিনে (১ জুলাই ২০২৬ থেকে ২৩ জুলাই ২০২৬) মোট ৩ লাখ ২০ হাজার ৮০০ মেট্রিকটন খাদ্যশস্য দেশে আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি পর্যায়ে আমদানি করা হয়েছে ১১ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিকটন। এর মধ্যে চাল ৭ লাখ ৮৩ হাজার টন ও গম ৩ লাখ ৮২ হাজার টন। এ ছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে ৩ লাখ ৯ হাজার ১৫০ মেট্রিকটন খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে চাল ২ লাখ ৯৪ হাজার টন ও গম ১৫ হাজার ১৫০ টন। এই সময়ে খাদ্য সাহায্য হিসেবে কোনো আমদানির প্রয়োজন হয়নি।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত দফতরগুলো থেকে জানানো হয়, বাজারে খাদ্যদ্রব্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রাখা, বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং সরকারি বিতরণ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখার লক্ষ্যে খাদ্যশস্যের মজুদ ও সংগ্রহ অভিযান সফলভাবে তদারকি করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংগ্রহ অধিশাখার যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বলেন, চলতি মৌসুমে আমাদের অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ অভিযান অত্যন্ত সফল ও সন্তোষজনকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। কৃষক ও চালকল মালিকদের সক্রিয় সহযোগিতায় এবং মন্ত্রণালয়ের সুসংহত ব্যবস্থাপনার ফলে আমরা লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কাজ করতে সক্ষম হয়েছি।

তিনি বলেন, বর্তমানে সরকারি গুদামগুলোতে চাল ও গমের পর্যাপ্ত ও নিরাপদ মজুদ রয়েছে। এই মজুদ যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে অত্যন্ত মজবুত ভিত্তি জোগাবে।

বাজারে চালের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় সরকারি খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে খাদ্য মন্ত্রণালয় সবসময় সতর্ক ও তৎপর রয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের (এফপিএমইউ) গবেষণা পরিচালক ফিরোজ আল মাহমুদ বলেন, জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার। ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে মজুদ ও মজুদের ক্যাপাসিটি বাড়ানোর কাজ চলছে।

খাদ্য অধিদফতরের সার্বিক সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জামাল হোসেন বলেন, খাদ্য নিরাপত্তার বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সন্তোষজনক। সরকারি গুদামগুলোতে খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিতের পাশাপাশি আমরা তা সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও গুণগত মান বজায় রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।

 

তিনি আরও যোগ করেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়ায় বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সংগ্রহ কেন্দ্রগুলোতে যেন কোনো প্রকার অনিয়ম না হয় এবং কৃষকরা যেন ন্যায্যমূল্য পান, সে বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া সরকারি বিতরণ ব্যবস্থা (ওএমএস, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ইত্যাদি) সচল রাখতে গুদামগুলো থেকে নিয়মিত ও নির্বিঘ্নে খাদ্যশস্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আগে আমাদের মজুদ কাপাসিটি ছিল ২৪ লাখ মেট্রিকটনের মতো, যা বর্তমানে বেড়ে ২৭ লাখ মেট্রিকটনে উন্নীত করা হয়েছে। বিএনপি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে ‘ক্যাপাসিটি’ আগামী পাঁচ বছরে ৩৪ লাখ মেট্রিকটনে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে।

জামাল হোসেন বলেন, এতদিন নিরাপদ লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতো ১৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিকটন। তবে বর্তমান সরকার বর্ধিত জনসংখ্যা এবং ‘সোশ্যাল সেফটি নেটওয়ার্ক’ বেড়ে যাওয়ায় নিরাপদ খাদ্য মজুদের লক্ষ্যমাত্রা ১৬ লাখ মেট্রিকটনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Manual1 Ad Code

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০৩১  

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code