প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

১৯শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৪ঠা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৬ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

আমূল বদলাচ্ছে একাদশে ভর্তি

editor
প্রকাশিত আগস্ট ১৯, ২০২৬, ০৮:৪৩ পূর্বাহ্ণ
আমূল বদলাচ্ছে একাদশে ভর্তি

Manual8 Ad Code

প্রজন্ম ডেস্ক:

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে আমূল পরিবর্তন আসছে। আগে এসএসসি ও সমমানে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা তিন ধাপে অনলাইনে একাদশে ভর্তি আবেদনের সুযোগ পেত।
তবে এ বছর প্রথম পর্যায়ে একবারই সুযোগ পাবে। যেহেতু আবেদনের সুযোগ একবারই, সেহেতু আগের মতো মাইগ্রেশনের সুযোগও আর থাকছে না। তবে পুনর্নিরীক্ষায় ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীরা আরেকবার সুযোগ পাবে। সেই সঙ্গে কেউ বাদ পড়ে থাকলে বা কোনো কারণে নিশ্চয়ন না করলে বা কলেজ না পেলে সেও আবার আবেদনের সুযোগ পাবে।

আন্ত শিক্ষা বোর্ডের প্রাথমিক প্রস্তাবে ১৫ সেপ্টেম্বর ভর্তি আবেদন শুরু ও ১২ নভেম্বর ক্লাস শুরুর প্রস্তাব থাকলেও এতে সায় দেয়নি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এখন সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ, অর্থাৎ শুরুর দিকেই অনলাইন আবেদন শুরু হবে। একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে আগামী মাসের তৃতীয় সপ্তাহে। আর যারা পুনর্নিরীক্ষার পর আবার আবেদন করে কলেজ পরিবর্তন করবে তাদের ক্লাসও আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যেই শুরু হবে।

 

Manual5 Ad Code

গত রবিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর উর্ধ্বতনদের নিয়ে গঠিত একাদশ শ্রেণির ভর্তি নীতিমালা কমিটির বৈঠক হয়। সেখানে দ্রুত শিক্ষাবর্ষ শুরুর তাগিদে ভর্তিতে এসব পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আন্ত শিক্ষা বোর্ডের সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘আমরা একাদশ শ্রেণির ভর্তি নীতিমালা নিয়ে কাজ করছি। আশা করছি আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে তা চূড়ান্ত হবে। এরপর তা নীতিমালা আকারে জারি করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
তবে আমাদের একাডেমিক কার্যক্রমে ডিসিপ্লিন ফিরিয়ে আনা খুবই জরুরি। এ জন্য ভর্তি কার্যক্রম ও ক্লাস এগিয়ে আনার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। তবে এসব ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়।’

ভর্তি কমিটির সভা সূত্রে জানা যায়, একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ভর্তি প্রক্রিয়া শেষে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হওয়ার কথা ১ জুলাই থেকে। কিন্তু গত কয়েক বছর নানা কারণে তা হয়ে ওঠেনি। গত বছর এসএসসির ফল প্রকাশ হয় ওই বছরের ১০ জুলাই। ভর্তি প্রক্রিয়া শেষে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হয় ১৫ সেপ্টেম্বর। কিন্তু এ বছর এসএসসির ফল প্রকাশ হয়েছে ১০ আগস্ট। এর পরও যেকোনোভাবেই হোক গত বছরের কাছাকাছি সময়ে ক্লাস শুরু করতে চায় মন্ত্রণালয়। আর সেটা বড়জোর গত বছরের চেয়ে এক সপ্তাহ পেছাতে পারে, এর বেশি নয়। কারণ তাহলে উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষাবর্ষেই সমস্যার সৃষ্টি হবে। আর সেখানে সমস্যা হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমস্যা হবে, নতুন করে সেশনজটের সৃষ্টি হবে।

সভা সূত্রে জানা যায়, এসএসসি পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়নে আগে শুধু প্রাপ্ত নম্বর নতুন করে গোনা হতো। কিন্তু এবার থেকে পুরো খাতাই মূল্যায়ন করা হবে। অর্থাৎ ওই খাতা নতুন করে দেখা হবে। আর এ বছর প্রায় চার লাখ শিক্ষার্থীর ১২ লাখ ৮৭ হাজার খাতা পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। যা আরেকটি ছোটখাটো পাবলিক পরীক্ষার মতোই। এতে আগে পুনর্নিরীক্ষার ফল দিতে এক মাস সময় লাগলেও এবার দু-তিন গুণ শিক্ষক খাতা দেখলেও কমপক্ষে ৪০ দিন সময় লাগবে। কিন্তু পুনর্নিরীক্ষার ফল না দিয়ে একাদশে ভর্তি আবেদন শুরু করাটাও সমস্যা। আবার যদি পুনর্নিরীক্ষার ফল দিয়ে আবেদন শুরু করতে হয়, তাহলে সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ আবেদন শুরু করতে হবে। তাহলে আবার ক্লাস চলে যাবে নভেম্বরে।

এসব সমস্যা সমাধানে একাদশে ভর্তিতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেয় কমিটি। সভায় সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে অনলাইনে আবেদন শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সময় বাঁচাতে এক ধাপে আবেদন নেওয়া হবে। যারা পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করেছে তাদেরও এই ধাপেই আবেদন করতে হবে। তবে সবাই এক ধাপে আবেদন করলে সার্ভারে যাতে সমস্যার সৃষ্টি না হয়, এ জন্য বুয়েটকে আগে থেকেই ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়।

জিপিএর ভিত্তিতে সবাইকে কলেজ পছন্দ করে দেওয়ার পর সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে ক্লাস শুরু হয়ে যাবে। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে পুনর্নিরীক্ষার ফল প্রকাশ হলে আরেকবার অনলাইনে আবেদনের সুযোগ দেওয়া হবে। যাদের ফল পরিবর্তন হয়েছে, তাদের মধ্যে কেউ যদি কলেজ পছন্দ না হয়, তারা এই ধাপে আবেদন করবে। একই সঙ্গে প্রথম ধাপে আবেদন না করা বা যাদের কোনো কারণে কলেজ পছন্দ করে দেওয়া যায়নি, তারাও এই ধাপে আবেদন করতে পারবে।

তবে এই পদ্ধতিতেও আরেকটি সমস্যা আলোচনায় আসে। প্রথম ধাপে যারা আবেদন করবে, তাদের দ্বারা ভালো কলেজগুলোর সব আসনই পূর্ণ হয়ে যাবে। তাহলে পুনর্নিরীক্ষার ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দের কলেজে কিভাবে ভর্তি হবে?

এই সমস্যারও সমাধান করে ভর্তি কমিটি। এ জন্য পুনর্নিরীক্ষার আবেদন ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীরা যেসব কলেজে আবেদন করবে, সেখানে আসনসংখ্যা বাড়ানো হবে। যাতে তাদের ফল আগের চেয়ে ভালো হলে ভর্তির ক্ষেত্রে কোনোভাবে বঞ্চিত না হয়। আর তারা আগে যে কলেজে ভর্তি হবে, ওই কলেজ তাদের ভর্তির পুরো টাকা ফেরত দিতে বাধ্য থাকবে। যারা কলেজ পরিবর্তন করে অন্য কলেজে যাবে বা নতুন করে ভর্তি হবে তাদের ক্লাসও ১ অক্টোবরের মধ্যে শুরু হবে।

তবে এবার আগের মতো আবেদন ফি ১৫০ টাকাই থাকছে। শিক্ষার্থীরা ন্যূনতম পাঁচটি ও সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ পছন্দ করতে পারবে। জিপিএর ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের কলেজ পছন্দ করে দেবে আন্ত শিক্ষা বোর্ড।

Manual6 Ad Code

পুনর্নিরীক্ষায় ১২ লাখ ৮৭ হাজার আবেদন : ২০২৬ সালে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত হয়। এতে ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নিলেও পাস করে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে এক লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।

তবে এই ফলে যারা অসন্তুষ্ট, তারা গত ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ফল পুনর্নিরীক্ষার আবেদনের সুযোগ পান। আন্ত শিক্ষা বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডসহ মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চার লাখ দুই হাজার ৫১ জন শিক্ষার্থী ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি খাতা পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করেছে। এর মধ্যে ঢাকা বোর্ডের ৯৪ হাজার ২৩৬ জন শিক্ষার্থী তিন লাখ ৩৫ হাজার ৬৭৭ পত্র, কুমিল্লা বোর্ডের ৩৫ হাজার ৯২৯ শিক্ষার্থী এক লাখ ১২ হাজার ৬১১ পত্র, রাজশাহীর ৩৯ হাজার ৭৬২ শিক্ষার্থী এক লাখ ২২ হাজার ২২৮ পত্র, যশোরের ২৮ হাজার ৮৬২ শিক্ষার্থী ৯১ হাজার ৫৯ পত্র, চট্টগ্রামের ৩৯ হাজার ৭৯৮ শিক্ষার্থী এক লাখ ৩৭ হাজার ৬০১ পত্র, বরিশালের ১৭ হাজার ২৮৩ শিক্ষার্থী ৬১ হাজার ৮৬ পত্র, সিলেটের ২০ হাজার ৭৮২ শিক্ষার্থী ৬০ হাজার ৯৭৪ পত্র, দিনাজপুরের ৩৭ হাজার ২৯৬ শিক্ষার্থী এক লাখ ১১ হাজার ২৬০ পত্র ও ময়মনসিংহ বোর্ডের ২৭ হাজার ৬৭৬ শিক্ষার্থী ৮৭ হাজার ১৫৭ পত্র পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করেছে।

অন্যদিকে মাদরাসা বোর্ডের ৪০ হাজার ১২০ জন শিক্ষার্থী এক লাখ ১৭ হাজার ৫৯ পত্র এবং কারিগরি বোর্ডের ২০ হাজার ৩০৭ শিক্ষার্থী ৫১ হাজার ২১৪ পত্র পুনর্নিরীক্ষার জন্য আবেদন করেছে।

একাদশে আসনের সংকট নেই : দেশে সাধারণ কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ৯ হাজার ৩১৪টি। এতে আসন রয়েছে প্রায় সাড়ে ২৭ লাখ। তবে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড ও মাদরাসা বোর্ডের অধীনে আট হাজার ৭১টি কলেজ ও মাদরাসা রয়েছে। যেখানে একাদশ শ্রেণিতে আসনসংখ্যা ২৫ লাখ ৯০ হাজার ৩৮৭টি। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এক হাজারের বেশি কারিগরি পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেখানে আসনসংখ্যা দেড় লাখের ওপরে। ফলে একাদশে ভর্তিতে আসনের কোনো সংকট নেই।

Manual5 Ad Code

তবে সবারই আগ্রহ রাজধানীর নামিদামি কিছু কলেজে ভর্তি হওয়ার। অথচ রাজধানীর পছন্দের অর্ধশত কলেজে আসনসংখ্যা সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ৬০ হাজার। এর বাইরে বিভাগীয় ও জেলা শহরের দুই শতাধিক পছন্দের কলেজে সর্বোচ্চ লক্ষাধিক আসন রয়েছে। এ ছাড়া অর্ধশতাধিক পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠান ও স্বল্পসংখ্যক মাদরাসাও শিক্ষার্থীদের পছন্দের। সব মিলিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা তিন শতাধিক হতে পারে। আর এই ভালো কলেজগুলোতে আসনসংখ্যা হতে পারে সর্বোচ্চ দুই লাখ।

Manual7 Ad Code

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১  

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code