নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিলেটে হাম পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। প্রতিদিনই সন্দেহভাজন রোগী বেড়ে চলায় হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে চাপ। বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৪০৫ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টাতেই নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৩৮ জন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের প্রকাশিত হাম ও রুবেলা রোগের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৬৪ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫৬ জন, মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ৮ জন এবং সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ১০ জন সন্দেহভাজন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
Manual6 Ad Code
বর্তমানে সবচেয়ে বেশি সন্দেহভাজন হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। সেখানে ভর্তি আছেন ১৬১ জন। এছাড়া ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৩৫ জন, রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৪ জন, পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৩ জন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৩০ জন, হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৭ জন এবং মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ২৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ১ হাজার ৩১ জন নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেটে ৩৬৩ জন, হবিগঞ্জে ১৫৩ জন, মৌলভীবাজারে ১৫৮ জন এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন।
Manual5 Ad Code
হাম আক্রান্তদের মৃত্যুর সংখ্যাও উদ্বেগজনক। এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম রোগে সিলেটে ৫৬ জন, হবিগঞ্জে ১৬ জন, মৌলভীবাজারে ১২ জন এবং সুনামগঞ্জে ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর নিশ্চিত হাম রোগে মারা গেছেন যথাক্রমে সিলেটে ৪ জন, হবিগঞ্জে ৪ জন, মৌলভীবাজারে ১ জন ও সুনামগঞ্জে ১ জন। সব মিলিয়ে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হাম রোগে বিভাগে ১৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
Manual3 Ad Code
তবে গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহভাজন হাম রোগে নতুন কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। একই সময়ে নতুন করে কোনো নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়নি।
Manual6 Ad Code
পরিস্থিতির সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, একদিকে প্রতিদিন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন, অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক রোগী এখনো চিকিৎসাধীন। একদিনে ১৩৮ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্যই বলে দিচ্ছে, সিলেটে হাম পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি।প্রতিদিনের খবর পড়া
স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যানে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ধারাবাহিকতা এবং হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ—দুই দিক থেকেই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ এবং হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা জোরদার করা জরুরি হয়ে পড়েছে।