যে কারণে সালমান শাহর মৃ*ত্যুর সঙ্গে শাবনূরের নাম জড়ায়?
যে কারণে সালমান শাহর মৃ*ত্যুর সঙ্গে শাবনূরের নাম জড়ায়?
editor
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ০৫:২২ পূর্বাহ্ণ
Manual1 Ad Code
নিউজ ডেস্ক :
ঢাকাই সিনেমার ক্ষণজন্মা নায়ক সালমান শাহ। তার নামটি উচ্চারিত হলেই যে কয়েকটি নাম অনিবার্যভাবে ফিরে আসে, শাবনূর তার অন্যতম। নব্বইয়ের দশকে পর্দায় তাদের জুটি ছিল তুমুল জনপ্রিয়। কিন্তু ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর অকাল মৃত্যুর পর সেই জুটির নামই ঢুকে পড়ে দেশের অন্যতম আলোচিত মৃত্যুরহস্যের বিতর্কে।
Manual7 Ad Code
৩০ বছর পরও প্রশ্নটি তাই ফিরে আসে, সালমান শাহর মৃত্যুর সঙ্গে শাবনূরের কোনো দায় ছিল কি? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আবেগ, গুঞ্জন, ব্যক্তিগত অভিযোগ, তদন্তের বক্তব্য এবং আদালতের নথি আলাদা করে দেখা জরুরি। কারণ কোনো তদন্তে বা কারও বক্তব্যে একটি নাম উঠে আসা এবং সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়।
Manual6 Ad Code
২০২০ সালে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআই সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়। ওই তদন্তে তার ব্যক্তিগত জীবন, দাম্পত্য টানাপোড়েন এবং শাবনূরের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তৈরি হওয়া বিরোধের প্রসঙ্গ উঠে আসে। পরে সেই তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আইনি লড়াই চলতে থাকে। ২০২৫ সালে আদালতের নির্দেশে ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসাবে নতুন করে তদন্তের পর্যায়ে যায়। ওই মামলায় সালমানের সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হলেও শাবনূরের নাম নেই।
Manual7 Ad Code
কেন বারবার শাবনূরের নাম আসে
সালমান-শাবনূর জুটি ছিল নব্বইয়ের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি। পর্দার জনপ্রিয়তার পাশাপাশি তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে সালমান শাহর মৃত্যুর পর শাবনূরের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা দাবি সামনে আসে। তবে এসব দাবির সঙ্গে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন, শাবনূর কখনো সালমান শাহর অপমৃত্যু কিংবা হত্যা মামলার আসামি ছিলেন না।
Manual4 Ad Code
২০২০ সালের পিবিআই তদন্তে অবশ্য শাবনূরের নাম আসে। তদন্তে সালমানের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। শাবনূরের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে তৈরি হওয়া বিরোধও তদন্তের আলোচনায় আসে এবং সেটিকে আত্মহত্যার পেছনে থাকা সম্ভাব্য কারণগুলোর একটি হিসাবে বিবেচনা করা হয়। তবে পিবিআইয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছিল, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন, তাকে হত্যা করা হয়নি। এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর শাবনূরও প্রকাশ্যে এর ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেন।
সর্বশেষ, চলতি বছরের ৩০ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের কথা থাকলেও তা পিছিয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর করা হয়েছে। অর্থাৎ, তিন দশক পরও সালমান শাহর মৃত্যুর চূড়ান্ত আইনি নিষ্পত্তি হয়নি।
২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিবিআই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর অস্ট্র্রেলিয়া (বর্তমানে তার স্থায়ী আবাস) থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শাবনূর বলেন, সালমান শাহ আত্মহত্যা করলেও তার জন্য তিনি কেন দায়ী হবেন? তিনি সালমানকে নিজের ভালো সহশিল্পী হিসাবে বর্ণনা করেন এবং তাদের সম্পর্ক নিয়ে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে তার নাম আসায় ক্ষোভও প্রকাশ করেন শাবনূর। অর্থাৎ, একই ঘটনায় দুটি ভিন্ন অবস্থান সামনে আসে। তদন্ত সংস্থা সম্পর্ক ও পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি বিবেচনা করেছে, আর শাবনূর সেই ব্যাখ্যাই প্রত্যাখ্যান করেছেন। এখনো শাবনূর তার পুরোনো অবস্থানে অনঢ় আছেন। সালমানের মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই বলে কিছুদিন আগেও তিনি জানিয়েছেন।