স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে নিরাপত্তামূলক ভূমিকা রাখতে পুরোদমে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে পুলিশ। আগামী জানুয়ারি মাসে কয়েক ধাপে অনুষ্ঠিত হবে এ নির্বাচন। এই নির্বাচনী দায়িত্ব পেশাদারত্বের সঙ্গে সম্পাদনে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামীকাল বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী প্রায় দুই লাখ পুলিশ সদস্যের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ। রাজধানী ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। রাজারবাগ বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের প্রস্তুতি রাখছে পুলিশ।
দেশের ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৩৩০টি পৌরসভা ও ১৩টি সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পদে ধাপে ধাপে ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি। সবশেষ ইউপি ভোট হয়েছে ২০২১ সালের এপ্রিল, নভেম্বর, ডিসেম্বর এবং ২০২২ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে সাত ধাপে। সাড়ে চার হাজার ইউনিয়নের সিংহভাগই নির্বাচন উপযোগী রয়েছে।
Manual3 Ad Code
নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সবকিছু ঠিক থাকলে স্থানীয় নির্বাচনের তফসিল বা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণার পর ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে গতকাল সোমবার পর্যন্ত আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার স্থানান্তরের সুযোগের শেষ দিন ছিল। ইতোমধ্যে অনেকেই তাদের ভোটার স্থানান্তর করেছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য গতকাল আচরণবিধি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যার সঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণ বিধির সঙ্গে অনেকটাই মিল রয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর আগামীকাল থেকে পুলিশের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ডিটিএস, পিটিসি, ইন সার্ভিস ট্রেনিং সার্ভিস সেন্টারসহ দেশের ১১৪টি ভেন্যুতে মাসব্যাপী এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে পুলিশের বিভিন্ন পদবির এক লাখ ৫২ হাজার সদস্যকে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এখন নতুন করে প্রায় ৫০ হাজার পুলিশ সদস্যকে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যারা এর আগে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ নেননি, তাদের প্রশিক্ষণ দেবেন ১ হাজার ৭৩৫ জন মাস্টার ট্রেইনার। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখেও বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রথমে ১ হাজার ৭৩৫ জন মাস্টার ট্রেইনার তৈরি করা হয়। পরে তারা সারা দেশে ১১৪টি ভেন্যুতে ১ লাখ ৫২ হাজার পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেন।
Manual3 Ad Code
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রশিক্ষণে নীতিগত জ্ঞান ও আইনি কাঠামো, বাস্তব প্রস্তুতি ও ব্যবহারিক অনুশীলন এবং অস্ত্র ও বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের ওপর ধারণা দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে পুলিশ সদর দপ্তর প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরি করেছে, যা আজ মঙ্গলবার চূড়ান্ত হতে পারে। পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনেও নির্বাচনী প্রশিক্ষণে কয়েকটি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্যগুলো হলোÑ নির্বাচনে চাপ, শক্তি বা হস্তক্ষেপমুক্ত আইনানুগ দায়িত্ব পালন; পুলিশকে ফ্রন্ট ফোর্স হিসেবে তুলে ধরে নির্বাচনকালে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখা; নির্বাচনকালে পুলিশের পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা; গুজব ও অপপ্রচারসহ সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় গোয়েন্দা তৎপরতাসহ সার্বিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সক্ষমতার সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা।
পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজি খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘স্থানীয় নির্বাচনে ভোটের মাঠের নিরাপত্তা তথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। এজন্য কাল বুধবার পুলিশের নির্বাচনী প্রশিক্ষণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে যেসব পুলিশ সদস্য নির্বাচনী প্রশিক্ষণের বাইরে ছিলেন, তাদের এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৫ হাজার ৫০০ বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করেছিল পুলিশ। এর মধ্যে ১৫ হাজার অনলাইন এবং ১০ হাজার অফলাইনে ছিল। অনলাইনে থাকা বডি-ওর্ন ক্যামেরা দিয়ে লাইভ স্ট্রিমিং করা হয়। বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের জন্য দেশের প্রতিটি থানায় একটি করে ডকিং বা ডক স্টেশন রয়েছে।
Manual4 Ad Code
ইসি সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা ও ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত হয়েছে। প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার প্যানেলও প্রস্তুত করা হচ্ছে। আচরণবিধির গেজেট হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনা বিধি ও আইন সংশোধনের কিছু সুপারিশও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। গত আগস্টে ভোটার তালিকা হালনাগাদ হয়ে গেছেÑ এখন প্রায় ১২ কোটি ৮৮ লাখ ভোটার। ভোটকেন্দ্রগুলো (প্রায় ৪৫ হাজার) নির্ধারণ শেষ পর্যায়ে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনেÑ বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদে হানাহানির প্রবণতা বেশি। সবশেষ ২০২১-২০২২ সালে অনুষ্ঠিত ভোটে অন্তত ৯৫ জনের প্রাণহানির তথ্য গণমাধ্যমে এসেছে। মাঝখানে দলীয় প্রতীকে এই ভোট হলেও এবার হচ্ছে নির্দলীয়ভাবে।