প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

৮ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৩শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৭শে রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

সৌদিতে ‘বিক্রি’, দেশে ফিরতে আকুতি জানানো রেহেনা ফিরছেন বৃহস্পতিবার

editor
প্রকাশিত অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০৬:০০ পূর্বাহ্ণ
সৌদিতে ‘বিক্রি’, দেশে ফিরতে আকুতি জানানো রেহেনা ফিরছেন বৃহস্পতিবার

Manual3 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

হবিগঞ্জের মাধবপুরের গৃহবধূ রেহেনা খাতুন সৌদি আরব গিয়েছিলেন গৃহকর্মী ভিসায়। সেখানে যাওয়ার পর জানতে পারেন, তাকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এরপর তিনি একটা ভিডিওবার্তা পাঠিয়ে তাকে উদ্ধারের আবেদন জানিয়েছিলেন। সেই ভিডিওবার্তার সূত্রে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে সংবাদ প্রতিবেদনের পর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জানা গেছে, বাংলাদেশ দূতাবাসের হেফাজতে এখন তিনি। তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই তাকে দেশে ফেরানো হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি।

Manual1 Ad Code

রেহেনা মাধবপুর উপজেলার ২ নম্বর চৌমুহনী ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামের কোনাবাড়ী মহল্লার বাসিন্দা। প্রায় দুই মাস আগে গৃহকর্মীর ভিসায় সৌদি আরবের জেদ্দায় যান তিনি। সেখানে কাজ করতে গিয়ে বিপাকে পড়ে দেশে ফেরার জন্য সরকারের সহযোগিতা চান।

গত ৫ অক্টোবর রেহেনাকে বাংলাদেশ দূতাবাসের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ শাখার উপপরিচালক আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া। বর্তমানে দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে থাকা রেহেনাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে গত ৪ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কল্যাণ শাখার পরিচালক লোকমান হোসেন সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে চিঠি দেন। চিঠিতে রেহেনাকে দ্রুত দেশে ফেরাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

Manual7 Ad Code

এদিকে ঢাকার ফকিরাপুলের রিক্রুটিং এজেন্সি জেনিয়া ওভারসিসের কর্মকর্তা হাসান মিয়া জানান, আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই রেহেনাকে দেশে ফেরানো হবে। তার বিমানের টিকিটও কেনা হয়েছে। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ দূতাবাসের হেফাজতে রয়েছেন।

এর আগে রেহেনা এক ভিডিওবার্তায় অভিযোগ করেছিলেন, সৌদি আরবে তাকে অতিরিক্ত কাজ করানো হচ্ছে, সময়মতো খাবার দেওয়া হচ্ছে না এবং বেতন-ভাতা দেওয়া হচ্ছে না। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ না করার জন্য তাকে ইন্টারনেট সংযোগও দেওয়া হয়নি বলে তার বোন হেনা বেগম অভিযোগ করেন। হেনা বেগমও বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।

ভিডিওবার্তায় রেহেনা আরও অভিযোগ করেন, সৌদি আরবে একটি এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করলে দেশে ফিরিয়ে নিতে তার কাছে সাড়ে তিন লাখ টাকা দাবি করা হয়। এ সময় এজেন্সির পক্ষ থেকে তাকে বলা হয়েছে, ‘আমি তোমাকে বিক্রি করে দিয়েছি। এরপর দায়দায়িত্ব আর আমি তোমাকে নিতে পারব না।’ পরে তিনি নিজেকে জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে রয়েছেন দাবি করে সরকারকে তাকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানান।

রেহেনার স্বামী আলী আহমদ জানান, স্ত্রীকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ায় তারা স্বস্তি পেয়েছেন। তবে রেহেনার পাওনা বেতন-ভাতা এখনো পরিশোধ করা হয়নি। তিনি সরকারের কাছে পাওনা টাকা আদায়েও সহযোগিতা কামনা করেন।

Manual1 Ad Code

রেহেনাকে সৌদি আরবে পাঠানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দালাল হিসেবে পরিবারের পক্ষ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার গিয়াস উদ্দিনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। অভিযোগের বিষয়ে গিয়াস উদ্দিন জানিয়েছিলেন, কিছু খরচাপাতি দিলে তাকে দেশে আনিয়ে দেওয়া যাবে।

Manual1 Ad Code

এদিকে রেহেনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তার স্বামী প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনের পর বিষয়টি দূতাবাসের মাধ্যমে খোঁজখবর নেওয়ার কথা জানিয়েছিল প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৭৮৯১০১১
১১৩৪১৫১৬১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৯৩০৩১  

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code