পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজের কাজ শিগগিরই শুরু: প্রধানমন্ত্রী
পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজের কাজ শিগগিরই শুরু: প্রধানমন্ত্রী
editor
প্রকাশিত অক্টোবর ২০, ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ণ
Manual6 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণের কাজ শিগগিরই শুরু করে দ্রুততম সময়ে তা শেষ করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, পদ্মা ব্যারেজ নির্মিত হলে রাজশাহীসহ আশপাশের প্রায় ১৪টি জেলার মানুষ উপকৃত হবেন।
মঙ্গলবার বিকালে রাজশাহীর হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিএনপি আয়োজিত জনসভায় এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “দেশের অগ্রগতির স্বার্থে, কৃষক ভাইদের অগ্রগতির স্বার্থে, মানুষের অগ্রগতির স্বার্থে আমরা দেখেছি, কীভাবে আমাদের পদ্মা নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, কীভাবে এই নদীর পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সে কারণে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বাংলাদেশের দুটি বড় নদী—উত্তরাঞ্চলের তিস্তা এবং রাজশাহীর পদ্মায় ব্যারেজ তৈরি করব, যাতে পানির সমস্যা দূর করতে পারি।”
পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের উদ্যোগ নেওয়ার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, যারা পানির সমস্যা ‘তৈরি করেছে’, তাদের সঙ্গে সরকার কথা বলবে।
Manual4 Ad Code
“বাংলাদেশের মানুষের পানির হিস্যা আদায় করার জন্য যতদূর আমাদেরকে যেতে হয় আমরা ততদূর যাব। কিন্তু ইনশআল্লাহ বাংলাদেশের পানির হিস্যা আমরা নিয়ে আসার চেষ্টা করব।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পানির হিস্যা আদায়ের উদ্যোগের পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণের কাজ শুরু এবং শেষ করার চেষ্টা করবে সরকার।
“এই ব্যারেজ সম্পন্ন হলে এই দেশের মানুষের উপকার হবে। প্রথমত উপকার হবে রাজশাহী জেলার মানুষের, তারপরে আশপাশের সকল মানুষের।”
জনসভায় বিএনপির প্রতি জনগণের সমর্থন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ, কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো, কৃষক কার্ড চালু এবং নারীদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার মত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনগণের সমর্থন প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “আপনারা কী চান, আপনাদের নির্বাচিত সরকার বিএনপি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করুক? তাহলে ইনশাআল্লাহ, আগামী পাঁচ বছর বিএনপিকে এই সমর্থন আপনাদের অব্যাহত রাখতে হবে। সমর্থন দেবেন?”
Manual7 Ad Code
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে জনসভায় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং রাজশাহী জেলার সংসদ সদস্যরা বক্তব্য দেন।
Manual1 Ad Code
শারদীয় দুর্গোৎসবের মধ্যে তিন নগরী সফরের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকালে রংপুর সফর শেষে বেলা ২টা ৫৫ মিনিটে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।
বিমানবন্দর থেকে সরাসরি হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে যান তিনি। সেখানে তিনি রাজশাহী অঞ্চলের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষীর মধ্যে ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা বিতরণ করেন।
জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার পর রাজশাহী ধর্মসভার পূজামণ্ডপ দেখতে যান তিনি। এরপর সার্কিট হাউজে মধ্যাহ্নভোজ সেরে রওনা হবেন চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জিতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তারেক রহমানের প্রথম রাজশাহী সফর।
এর আগে সকালে তিনি রংপুরের রাধা গোবিন্দ ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। তারপর সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে সামরিক বিমানে রাজশাহী আসেন তিনি।
চট্টগ্রামে পৌঁছে জেএম সেন হল ও রহমতগঞ্জ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে যাত্রাবিরতি শেষে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন তিনি।