স্টাফ রিপোর্টার:
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানের ছত্রছায়ায় সাভার-আশুলিয়ায় ৬২ জনকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। বুধবার আদালতে আসামির রিমান্ড শুনানিতে তিনি এমন দাবি করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সবচেয়ে বেশি তাণ্ডব চালানো হয় সাভার ও আশুলিয়া এলাকায়। আশুলিয়ায় ৪১ জন এবং সাভারে ২১ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনা ঘটেছে তার (এনাম) নির্বাচনি এলাকায়। এ আসামির ছত্রছায়ায় এসব ঘটনা ঘটেছে। তিনি ধনাঢ্য ব্যক্তি। টাকা দিয়ে এসব অপকর্ম করিয়েছেন। লাশে গান পাউডার দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে।’
Manual1 Ad Code
এদিন সকালে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম কে এম মহিউদ্দিনের আদালতে সাভারে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কাইয়ুম হত্যা মামলায় রিমান্ড শুনানিতে এমন দাবি করেন তিনি।
Manual5 Ad Code
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ইকবাল হোসেন রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। তারা বলেন, আমরাও চাই মামলার তদন্তভার ঠিকভাবে হোক। বয়স বিবেচনায় তার রিমান্ড বাতিলের আবেদন করছি। প্রয়োজনে তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক।
এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, পুলিশের পেছনে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আহতদের চিকিৎসাও করতে দেয়নি।
Manual7 Ad Code
এ সময় ডা. এনাম বলেন, এটা মিথ্যা কথা। যখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু তখন বিনামূল্যে চিকিৎসা দিতে নির্দেশ দিয়েছি। আমি নিজে গেছি। জুলাই থেকে অক্টোবর চার মাসে গুলিবিদ্ধ ২৯০ জনকে এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দিয়েছি। ওষুধ, খাবার, অপারেশন করিয়েছি। জরুরি বিভাগ থেকে আহত ৫৭৬ জনকে চিকিৎসা সেবা দিয়েছি৷ সব রেকর্ডে আছে। রানা প্লাজার ভবন ধসের সময় সাড়ে পাঁচ হাজার শ্রমিককে চিকিৎসা দিয়েছি। এনাম মেডিক্যাল মানবিক হাসপাতাল।
পরে আদালত তার ৫ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ঢাকা জেলার সাভার বাসস্ট্যান্ডে ৫ আগস্ট দুপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ’র শিক্ষার্থী কাইয়ুম। এ ঘটনায় তার মা কুলছুম বেগম সাভার মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
Manual3 Ad Code
গত ২৬ জানুয়ারি দিবাগত রাতে রাজধানীর ভাটারা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মিরপুর মডেল থানায় হকার সাগর হত্যা মামলায় তার ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ২ ফেব্রুয়ারি রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।