ছাত্রদের নতুন দলের সম্ভাব্য আহ্বায়ক নাহিদ, সদস্য সচিব আখতার-নাসীরুদ্দীন
ছাত্রদের নতুন দলের সম্ভাব্য আহ্বায়ক নাহিদ, সদস্য সচিব আখতার-নাসীরুদ্দীন
editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৫, ০৫:৩১ পূর্বাহ্ণ
Manual6 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কিছুদিন ধরে আলোচনা হচ্ছে শিক্ষার্থী-জনতা নিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন নিয়ে। এই দল কবে প্রকাশ্যে আসছে, দলের নেতৃত্ব কে দেবে- তা নিয়ে সাধারণ মানুষের রয়েছে জনগণের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে কৌতুহল। তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারি মাসের ২৪ তারিখে সম্ভব্য রাজনৈতিক দলটির নাম ঘোষণা হতে পারে।
এদিকে আসন্ন দলটির দলটির নাম এবং প্রতীকের বিষয়ে চলছে জনমত জরিপ। এ ক্ষেত্রে জনগণের চিন্তাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন দলটির উদ্যোক্তারা। এরই মধ্যে শুধু অনলাইনেই প্রায় দেড় লাখ মানুষ নিজেদের মতামত জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। নামের বিষয়ে নাগরিক কমিটির এক নেতা বলেন, বেশিরভাগ মানুষ নাগরিক, বৈষম্যবিরোধী, অধিকার এসব যুক্ত অর্থাৎ নাগরিক অধিকার পার্টি, নাগরিক মর্যাদা ইত্যাদি নাম সাজেস্ট করছেন। প্রতীক হিসেবে গতানুগতিক প্রতীকের বাইরে অর্থাৎ অভ্যুত্থানের কোনো চিহ্নকে বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন অনেকে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও নাগরিক কমিটির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে দল ঘোষণার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। দল ঘোষণার পর চলতি মাসের শেষ দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় কর্মসূচিও পালন করতে চান তারা। সেক্ষেত্রে ২৫ ফেব্রুয়ারি দল ঘোষণার বিষয়ে মতামত আসে। ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানা হত্যা দিবস হওয়ায় তার আগের দিন অর্থাৎ ২৪ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা হতে পারে বলে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে।
নতুন দলের রাজনৈতিক কাঠামো কী হবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে জানিয়ে এই নেতারা বলেন, শুরুতে আহ্বায়ক কমিটি দিয়েই শুরু করতে চান তারা। আহ্বায়ক হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম অনেকটা চূড়ান্ত হলেও সদস্য সচিব নিয়ে চলছে আলোচনা। সেক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তাদের দুজন থেকে একজন সদস্য সচিবের দায়িত্ব নেবেন। এ ছাড়া নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ, সদস্য সচিব আরিফ সোহেল ও মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসুদ থাকছেন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে।
আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, চমক হিসেবে কয়েকটি দলের তরুণ নেতাদের দেখা যেতে পারে এই দলে। কেউ কেউ দল ঘোষণার সময় আর কেউ বা নির্বাচনের আগে দলে যোগ দিতে পারেন। ইসলামী ছাত্রশিবির ও বাম ছাত্রনেতাদের কয়েকজনের যোগদানের বিষয়টি এরই মধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করলেও অন্য দুই তরুণ উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলমের এখনই পদত্যাগ করার সম্ভাবনা নেই। এ ছাড়া নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম সারির নেতারা রাজনৈতিক দলে যোগ দিলে এই দুই সংগঠনেও আসবে নতুন নেতৃত্ব। দ্বিতীয় সারির নেতারা অভ্যুত্থানের এই দুই শক্তির দায়িত্বে আসবেন বলে জানা গেছে।
নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, নাহিদ ইসলামকেই আহ্বায়ক হিসেবে আমাদের নীতিনির্ধারণী ফোরাম চিন্তা করছে। তিনি উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করলে নতুন দলের দায়িত্ব নেবেন। নাগরিক কমিটি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এভাবেই পরিকল্পনা করছে। অন্য দুই তরুণ উপদেষ্টাকে নিয়ে এখনো সে ধরনের কোনো ভাবনা নেই।
Manual5 Ad Code
নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সামান্তা শারমিন বলেন, ‘দল গঠনের প্রক্রিয়া হিসেবে আমরা জনমত জরিপ করছি। অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনেও বিভিন্ন জেলা থেকে মতামত আসছে। সে ডাটাগুলো অ্যানালাইসিস করা শুরু হবে। এরপরই আমরা বুঝতে পারব জনগণ কী ধরনের দল চাচ্ছে, কী ধরনের নাম চাচ্ছে, মার্কা চাচ্ছে। জনগণের মতামতকেই আমরা প্রাধান্য দেব। এ ছাড়া গঠনতন্ত্র, ঘোষণাপত্র আমরা প্রস্তুত করছি। আমরা ভাবছি যে, যাতে দলের মধ্যে নতুন নেতৃত্ব তৈরি হয়। এক ব্যক্তি কিংবা পরিবারকেন্দ্রিক কালচার যেন তৈরি না হয়।’
এদিকে নতুন দলের কাঠামো, গঠনতন্ত্র, ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করতে কাজ করছেন নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। দেশের সব রাজনৈতিক দল এবং বহির্বিশ্বের যেসব দল অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে, সেসব দলকে নিয়ে বিস্তর গবেষণা করছেন তারা। এর মধ্যে ভারতের অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম-আদমি পার্টি, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (একে) পার্টি এবং পাকিস্তানের দল ইমরান খানের তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) রয়েছে।
সামান্তা শারমিন বলেন, ‘দেশে এবং দেশের বাইরে বিভিন্ন দলের গঠন প্রক্রিয়া আমরা বিশ্লেষণ করছি। বিশেষ করে অভ্যুত্থান এবং যুদ্ধের পরে যে ধরনের পার্টি গঠিত হয়েছে, সেসব আমরা বিশেষভাবে বিশ্লেষণ করছি। আমাদের এমন একটা স্ট্রাকচার দরকার, যেটি একই সঙ্গে জনগণের কাছে অপরিচিত নয়, আবার অভ্যুত্থানের যে স্পিরিট সেটাকে ধারণ করবে। জনগণকে একটা সুন্দর রাজনৈতিক দল উপহার দেওয়ার জন্য আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। মানুষের বিপুল রেসপন্স আমরা পাচ্ছি। গুগল ফর্ম ছাড়ার দুই ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় লক্ষাধিক মানুষ মতামত প্রধান করেছে।
নতুন দলের বিষয়ে সহ-মুখপাত্র সালেহ উদ্দিন সিফাত বলেন, ‘নতুন রাজনৈতিক দল জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সৃষ্ট নতুন রাষ্ট্রকল্প ও প্রস্তাবনা নিয়ে আসছে। স্বাস্থ্য খাত থেকে শুরু করে শিক্ষা খাত, পররাষ্ট্রনীতি, অর্থ খাত, পরিবেশবিষয়ক নানা প্রস্তাবনা আমরা এরই মধ্যে নাগরিকদের কাছ থেকে পাচ্ছি। এগুলো সন্নিবদ্ধ করার কাজ চলমান। নাগরিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছাত্র-তরুণদের এই দল গঠনে নিজেদের শামিল করছেন। আমাদের প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারাও প্রবাসীদের ভোটাধিকার বাস্তবায়নসহ নানা গঠনমূলক প্রস্তাবনা দিচ্ছেন। এর মাধ্যমে জনগণের মধ্য থেকে রাজনৈতিক দল গঠনের অভূতপূর্ব নজির বাংলাদেশে স্থাপিত হতে যাচ্ছে।’
Manual3 Ad Code
এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবেই থাকবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি জানান, রাজনৈতিক দলটি নতুন নামে আত্মপ্রকাশ করবে। চাইলে ওই দুটি ফোরাম থেকে যে কেউ নতুন দলে যোগ দিতে পারবেন।
নাসীরুদ্দীন বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি প্রেসার গ্রুপ হিসেবে কাজ করবে। এই দুই অংশের কেউ চাইলে নতুন রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে পারবেন। আমাদের সঙ্গে বিপ্লবী, সিভিল সোসাইটি ও পলিটিক্যাল—তিন ধরনের লোক আছেন, যারা রাজনীতি করতে চান। নতুন রাজনৈতিক দল যদি তাদের পছন্দ হয় সেখানে তারা অবশ্যই যোগ দিতে পারবেন।’
Manual5 Ad Code
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসুদ বলেন, ‘ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে যাতে আমরা নতুন দল ঘোষণা করতে পারি, তা নিয়ে জোর প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যে গঠনতন্ত্র, ঘোষণাপত্র তৈরিসহ অন্যান্য কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। শিগগিরই দলের নাম ও প্রতীক চূড়ান্ত হবে। গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া নেতারাই থাকবেন এই দলের নেতৃত্বে। চমকও থাকতে পারে। সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে আমরা বাংলাদেশপন্থি একটা রাজনৈতিক দল গঠনের চেষ্টা করছি।’