স্টাফ রিপোর্টার:
সংসদ নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রার্থীদের কাছে দলীয় স্বেচ্ছাসেবী চাইলেন সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী। এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেছেন, আমাদের যে পরিমাণ ক্ষমতা বা যে সংখ্যক পুলিশ সদস্য রয়েছে, তা দিয়ে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারব না। এটা করতে আপনাদের অংশগ্রহণ লাগবে। এ জন্য আমরা চাই আপনাদের দল থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে নাম দিন।
Manual8 Ad Code
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে এসএমপির সম্মেলনকক্ষে সিলেট-১ ও সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসএমপি কমিশনার এসব কথা বলেন। সভায় বিএনপি, এনসিপি, জামায়াত, জমিয়তে উলামাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন।
আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবীদের আমরা নির্বাচন-সংক্রান্ত কিছু বিষয় নিয়ে ব্রিফিং করব। নির্বাচনী নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ আমরা দেব, যাতে আপনাদের সবার অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে হয়। আমাদের নিরাপত্তা তো থাকবেই।’ তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আপনাদের স্বেচ্ছাসেবীরা যদি থাকে, তহালে আমাদের কাজগুলো সুন্দরভাবে করতে পারব।’
আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী বলেন, ‘আমরা চাই একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেন সব রাজনৈতিক নেতাকে এক টেবিলে বসাতে পারি। সেখানে আলোচনা হবে। কেউ যেন কারও ব্যানার না ছিঁড়ে, কারও ফেস্টুনের ওপর আরেক ফেস্টুন না দেয়। নির্বাচনের আগে থেকেই আমরা চাচ্ছি সবাই মিলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করতে।’ তিনি বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে আমরা এখন থেকেই মাঠে কাজ শুরু করেছি। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা, নির্বাচনী আচরণবিধি পালন এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করতেই আমাদের এ উদ্যোগ।’
Manual7 Ad Code
কমিশনার বলেন, ‘নির্বাচনে কোনো প্রার্থী, দল বা ব্যক্তিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে না। এসএমপি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে। জনগণ যেন নিরাপদে ভোট দিতে পারেন, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।’ কমিশনার বলেন, ‘সিলেটের প্রার্থীরা যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের সহযোগিতা করেন, তাহলে আমরা একটি শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন উপহার দিতে পারব– এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
Manual2 Ad Code
সভায় ভোটারদের নিরাপত্তা, প্রচার-প্রচারণার শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহারে সতর্কতা নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় এসএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন থানার ওসি ও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ কমিশনার বলেন, প্রতি ১০ হাজারের বিপরীতে আমার ফোর্স আছে ২০ থেকে ২৫ জন। এ ছাড়া র্যাব ও আনসারের সংখ্যা আরও কম। একসঙ্গে ১০ প্রার্থী মিছিল সমাবেশ শুরু করলে আমি কীভাবে তাদের নিরাপত্তা দেব। এ কারণে আগামী নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলের সব প্রার্থীকে বলেছি তাদের ভলান্টিয়ার দেওয়ার জন্য। সবাই মিলেমিশে করলে নিরাপত্তার কাজটা অনেক সহজ হবে।