আদালত চলাকালে দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ
আদালত চলাকালে দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ
editor
প্রকাশিত মার্চ ২, ২০২৬, ০৬:২০ পূর্বাহ্ণ
Manual7 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
সুনামগঞ্জে আদালত চলাকালীন জেলহাজতে জামিননামা পাঠানোর বিনিময়ে সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় থেকে এই অনৈতিক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা ও গুরুত্ব বিবেচনা করে অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে নিজ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন সোমবার (২ মার্চ) গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
Manual1 Ad Code
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২৫ ফেব্রুয়ারি, যখন আদালতের হাজতখানায় কর্মরত এএসআই রফিক ও কনস্টেবল সাইফুল কর্তৃক জামিননামা জেলহাজতে পাঠানোর জন্য এক সেবাগ্রহীতার কাছে অর্থ দাবি করার একটি ভিডিও স্থানীয় দৈনিক ও টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, ওই পুলিশ সদস্যরা সরকারি দায়িত্ব পালনের বিনিময়ে অনৈতিকভাবে ঘুষ দাবি করছেন, যা প্রচলিত সরকারি নিয়মনীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন। আদালতের প্রাঙ্গণে এমন আচরণ বিচার বিভাগ ও পুলিশ বাহিনীর সামগ্রিক ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এই স্পর্শকাতর বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে সুনামগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা পুলিশ সুপারকে নির্দেশ প্রদান করেন।
Manual3 Ad Code
আদালতের সেই নির্দেশের প্রেক্ষিতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
Manual5 Ad Code
সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং বর্তমানে তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে দোষ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে স্থায়ী বরখাস্তসহ কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
Manual3 Ad Code
সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির জায়গা হিসেবে পরিচিত আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশের এমন দুর্নীতি দমনে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিতের মাধ্যমে বাহিনীর শৃঙ্খলা বজায় রাখার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা পুলিশের শীর্ষ এই কর্মকর্তা।