নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমার বাবনা এলাকায় পিকআপ চালক এএসআই অরুন চন্দ্র কৈরীকে থাপ্পড় দেয়ার ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মহানগর পুলিশ। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) গৌতম দেবকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা।
Manual5 Ad Code
এদিকে, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দক্ষিণ সুরমা থানায় অভিযুক্ত পিকআপ চালক জুয়েল আহমেদকে (৩৫) মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। জুয়েল দক্ষিণ সুরমা থানার খোজারখলা এলাকার মৃত বাবুল মিয়ার ছেলে।
Manual5 Ad Code
পুলিশ জানায়, বুধবার (১১ মার্চ) রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) ট্রাফিক বিভাগের উত্তর জোনের আম্বরখানা-তেমুখী এলাকায় চেকপোস্ট বসায় পুলিশ। এসময় সুবিদবাজার এলাকায় একটি পিকআপ (সিলেট মেট্রো-ন-১৫-০৭১৭) দ্রুত ও বেপরোয়া গতিতে মদিনা মার্কেটের দিক থেকে সুবিদবাজারের দিকে আসছিলো।
Manual7 Ad Code
এসময় কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্ট সত্যজিৎ দাস গাড়িটি থামানোর সিগন্যাল দিলে চালক তা অমান্য করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে সার্জেন্ট সত্যজিৎ দাস একটি সিএনজি অটোরিকশায় করে পিকআপটির পিছু নেন এবং একাধিকবার থামার নির্দেশ দিলেও চালক আরও বেপরোয়া গতিতে বাবনা পয়েন্টের দিকে চলে যায়।
বাবনা পয়েন্ট এলাকায় যানজট থাকায় স্থানীয় সিএনজি চালক ও জনতার সহায়তায় পিকআপটি থামানো সম্ভব হয়। এ সময় উত্তেজিত জনতা চালককে মারধর শুরু করলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করে। পরে রাত আনুমানিক ২টার দিকে লাউয়াই পুলিশ বক্সের পেট্রোল ডিউটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পিকআপ চালক জুয়েল আহমেদ (৩৫) হঠাৎ উঠে এএসআই (নিঃ) অরুন চন্দ্র কৈরীর ডান গালে ঘুষি মেরে আহত করে। একই সময় চালকের পক্ষ নিয়ে ৮ থেকে ১০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি বেআইনি জনতাবদ্ধ হয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ চালায় এবং কর্তব্য পালনে বাধা দেয়।
এদিকে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার সাইফুল ইসলাম জানান, পুলিশে কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্ট ও পুলিশ সদস্যদের সাথে একজন পিকআপ চালকের সৃষ্ট ঘটনা নিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য সিলেট মহানগর পুলিশের দৃষ্টিগোচর হয়। সংবাদ সম্মেলনে একতরফাভাবে শুধুমাত্র পুলিশকে দোষারোপ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। এ ঘটনা খতিয়ে দেখতে পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে।
Manual8 Ad Code
তিনি বলেন, উক্ত ঘটনায় উচ্ছৃঙ্খল জনতা কর্তব্যরত পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা প্রদান সংক্রান্তে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। এমতাবস্থায় তদন্তাধীন ব্যাপারে কতিপয় অতি উৎসাহী ব্যক্তিবর্গ ফেসবুক তথা গণমাধ্যমে বিভিন্ন রকমের বক্তব্য প্রদান করে উক্ত ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা করছেন। সেই সাথে সিলেট জেলা ট্রাক পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিকবৃন্দকে পুলিশের মুখোমুখি দাঁড় করানোর হীন অপচেষ্টা চলছে। ফেসবুকসহ গণমাধ্যমে যে কোন অসত্য বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান ও অপপ্রচারমূলক বক্তব্য রোধে সতর্ক থাকার জন্য সিলেট মহানগরবাসীকে অনুরোধ জানান তিনি।