নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটের সীমান্ত পথ দিয়ে ভারতে ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে চার নারীকে পাচার করে একটি মানবপাচারকারী দল। পাচার হওয়া ওই নারীরা ভারতীয় বিএসএফের কাছে ধরা পড়েন। ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর সকালে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফ তাদেরকে বাংলাদেশের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেন। এ ঘটনায় পাচার হওয়া এক নারী গোয়াইনঘাট থানায় মানবপাচার ও প্রতিরোধ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
Manual1 Ad Code
এদিকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব মামলার দুই আসামীকে চলতি শনিবার (১৪ মার্চ) ভোরে গোয়াইনঘাট থানাধীন মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে গ্রেফতার করে। শনিবার দুপুরে গ্রেফতারকৃতদের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে, গোয়াইঘাটের খাসিয়া খাওড় গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে আলমগীর (২৫) ও একই গ্রামের মৃত রূপ মিয়ার ছেলে আব্দুল হান্নান (২৯)।।
র্যাব জানায়, পাচারকারীর কবলে পড়েন এক নারী। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া থানাধীন পাটগাতী এলাকার বাসিন্দা। তিনি গার্মেন্টসে কাজ করার জন্য ঢাকায় আসলে অজ্ঞাতনামা আরেকজন মহিলার সাথে তার পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে অজ্ঞাতনামা ওই মহিলা তাকে ভারতে গিয়ে কাজ করার প্রস্তাব দিলে তিনি রাজি হন। এরই প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর অজ্ঞাতনামা ওই মহিলা ভিকটিমকে সিলেটে নিয়ে আসে। পরে পাচারকারী চক্রের সদস্য হাসান একটি প্রাইভেটকারযোগে ভিকটিমকে জাফলং নিয়ে গিয়ে অন্যান্যদের সাথে তাকে পরিচয় করিয়ে দেয়।
Manual7 Ad Code
র্যাব আরও জানায়, পাচারকারী চক্রের সদস্যরা ওই মহিলাকে জানায় তারা অনেক লোক ভারতে পাঠায় এবং যাদেরকে পাঠায় তারা সেখানে ভালো কোম্পানীতে কাজ পেয়েছে। এসময় গোপালগঞ্জের ওই নারী চক্রর সদস্যদের জানান তার কাছে কোন পাসপোর্ট ও ভিসা নাই। তখন পাচারকারীরা তাকে জানায় ভারতে পাঠাতে কোন পাসপোর্ট এবং ভিসা লাগেনা। এসময় পাচারকারীরা মহিলাকে জানায় তার সাথে আরও ৩ জন মেয়ে ভারতে যাবে। এরই প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জের ওই মহিলাসহ চার জনকে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করায়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর রাতে ভারতীয় বিএসএফ অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে তাদেরকে আটক করে।