প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৩ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৭ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

সুনামগঞ্জে যে কারণে বাড়ছে প্রাণহানি

editor
প্রকাশিত এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ০৭:০৭ পূর্বাহ্ণ
সুনামগঞ্জে যে কারণে বাড়ছে প্রাণহানি

Manual4 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সুনামগঞ্জে অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে বাড়ছে বজ্রপাত। একইসাথে বেড়েছে প্রাণহানি। বজ্রপাতে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও দিরাইয়ে বজ্রপাতে ৫ কৃষকের মৃত্যু হয়েছে এবং ৭ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) পৃথক পৃথক সময়ে এসব ঘটনা ঘটে। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার এ হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

Manual4 Ad Code

নিহতরা হলেন—জামালগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের আমির আলীর ছেলে নূর জামাল (২৬), ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে হবিবুর রহমান (২২), সরস্বতীপুর গ্রামের জয়নাল হকের ছেলে রহমত উল্লাহ (১৫), তাহিরপুর উপজেলার গাজীপুর গ্রামের আবু বক্করের ছেলে আবুল কালাম (৩২) এবং দিরাই উপজেলার পেরুয়া হাসনবাজ গ্রামের চান্দু মিয়ার ছেলে লিটন মিয়া (৩৮)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের কাছে পাগনার হাওরে বোরো ধান কাটতে গিয়েছিলেন নূর জামাল (২৬), মৃত রমজান আলীর ছেলে জালাল উদ্দীন (৫০) এবং জালাল উদ্দীনের ছেলে তোফাজ্জল হোসেন (২২)। দুপুরে হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে এতে নূর জামাল ও তোফাজ্জল হোসেন আহত হন।

স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নূর জামালকে মৃত ঘোষণা করেন। তোফাজ্জল হোসেনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

Manual1 Ad Code

এদিকে একই সময়ে ধর্মপাশা উপজেলার টগার হাওরে চকিয়াচানপুর গ্রামের কাছে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে হবিবুর রহমান (২২) নামে এক কলেজশিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের সময় এ ঘটনা ঘটে। নিহত হবিবুর রহমান পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের বাসিন্দা ফজলুর রহমানের ছেলে এবং বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, হবিবুর রহমান তার চাচার সঙ্গে টগার হাওরসংলগ্ন জমিতে বোরো ধান কাটতে গিয়েছিলেন। হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে দ্রুত ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার জন্য রওনা দেওয়া হয়। তবে পথে তার অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।

Manual4 Ad Code

এদিকে একই উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতীপুর গ্রামের কাছে বজ্রপাতে জয়নাল হক (৩৫), তার ছেলে রহমত উল্লাহ (১৫) এবং লাল সাধুর স্ত্রী শিখা মনি (২৫) গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রহমত উল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন এবং জয়নাল হক ও শিখা মনিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

অন্যদিকে তাহিরপুরে বজ্রপাতে আবুল কালাম (৩২) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত আবুল কালাম তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের আবু বক্করের ছেলে। আহত নূর মোহাম্মদ (২২) বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নের জামলাবাজ গ্রামের আলী আওয়ালের ছেলে।

আজ শনিবার দুপুরে তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরে হালকা বৃষ্টি ও দমকা বাতাসের মধ্যে বজ্রপাত হলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, আবুল কালাম ও নূর মোহাম্মদ মাটিয়ান হাওরে হাঁসের খামার দেখাশোনা করতেন। প্রতিদিনের মতো শনিবারও তারা হাওরে হাঁস চরাতে গেলে হঠাৎ বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হয়। এতে ঘটনাস্থলেই আবুল কালামের মৃত্যু হয় এবং নূর মোহাম্মদ গুরুতর আহত হন।

খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে। গুরুতর আহত নূর মোহাম্মদকে প্রথমে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ফয়েজ আহমদ নুরী জানান, নূর মোহাম্মদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে সিলেটে পাঠানো হয়েছে।সংবাদ পরিবেশন

এদিকে দিরাই উপজেলার কালীয়াগোটা হাওরের একটি বিলের পাশে ধান কাটছিলেন পেরুয়া হাসনবাজ গ্রামের চান্দু মিয়ার ছেলে লিটন মিয়া (৩৮)। এ সময় আকস্মিক বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

Manual3 Ad Code

দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. প্রশান্ত দাস তালুকদার লিটন মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪৫
৭৮৯১০১১১১৩
৪১৫১৬১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৯৩০  

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code