নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিলেটের অপরাধ জগতের হোতা আসাদুল আলম বাপ্পী কিশোর বয়স থেকেই পা বাড়ায় অপরাধ জগতে। একাধিকবার জেল খাটেলও জামিনে বেরিয়ে সেই পুরোনো পথে হাটে বাপ্পী। একই সাথে নগরীতে মাদক ব্যবসা ও ছিনতাইয়ের সিন্ডিকেট গড়ে তুলে। পুলিশের তালিকাভুক্ত অপরাধী হলেও সে ছিলো অত্যান্ত কৌশলী। পুলিশের ধরপাকড় থেকে বাঁচতে সে থাকতো সবসময় আত্মগোপনে। সিন্ডিকেট থেকে সিগন্যাল পেলেই নেমে পড়ত অপরাধ জগতে।
Manual2 Ad Code
বাপ্পী কোতোয়ালী থানার কাজিরবাজার এলাকার মোগলটুলার আবুল হোসেনের ছেলে।
শনিবার (২৩ মে) নিহত র্যাব সদস্য ইমন হত্যাকান্ডের ঘটনায় থানায় মামলা হলে বাপ্পীকে সেই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে। সেই সাথে থানায় মামলা দায়েরে বিলম্ব হলে গ্রেফতারকৃত বাপ্পীকে আগের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। পরে ইমন হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে বলে পুলিশ সূত্র জানায়।
সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ওসি মাইনুল জাকির বলেন, র্যাব সদস্য ইমন হত্যার ঘটনায় থানায় সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে অভিযোগ দাখিল করবে তার পরিবার। যদি অভিযোগ দাখিলে বিলম্ব হয় তাহলে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত বাপ্পীকে আগের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে। পরে থানায় ইমন হত্যার অভিযোগ দাখিল করার পর তা হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার পর ছিতাইকারী বাপ্পীকে সেই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে।
Manual4 Ad Code
তিনি জানান, গ্রেফতারকৃত বাপ্পীর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও ছিনতাইসহ ৪টি মামলা রয়েছে।
Manual7 Ad Code
পুলিশ জানায়, শুক্রবার দুপুরে কোতোয়ালি থানা লাগোয়া কয়েকজন ছিনতাইকারী ও মাদকসেবী বসে মাদক সেবন করার সময় পুলিশের একটি দল তাদের ধাওয়া করে। পুলিশের তাড়া খেয়ে মাদকসেবীরা দৌড়ে পালাতে শুরু করলে ওই এলাকায় সাদা পোশাকে থাকা র্যাব সদস্য ইমন আচার্য পুলিশকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে যান। তিনি ছিনতাইকারী আসাদুল আলম বাপ্পীকে জাপটে ধরেন। দুজনের তীব্র ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বাপ্পী ধারালো ছুরি দিয়ে ইমনের বুকের বাম পাশে আঘাত করে। রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় ইমনকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিসিইউ-২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
Manual3 Ad Code
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, র্যাব সদস্যকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার সময় ঘাতক বাপ্পী তোপখানার একটি বাসায় ঢুকে পড়ে। বাঁচার শেষ চেষ্টা হিসাবে সে এক শিশুর গলায় ছুরি ধরে পরিবারকে জিম্মি করার চেষ্টা চালায়। পরবর্তীতে পুলিশ ও র্যাবের যৌথ দল অত্যন্ত নিখুঁত ও কৌশলী অভিযান চালিয়ে জিম্মি শিশুর প্রাণ রক্ষা করে। পরে ঘটনাস্থল থেকেই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরিসহ আসাদুল আলম বাপ্পীকে পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।