স্ত্রীর মামলায় সিলেটের যে পুলিশ কর্মকর্তার দুর্গতি
স্ত্রীর মামলায় সিলেটের যে পুলিশ কর্মকর্তার দুর্গতি
editor
প্রকাশিত জুলাই ২, ২০২৬, ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ণ
Manual4 Ad Code
নিজস্ব প্রতিবেদক :
স্ত্রীর দায়ের করা প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় সিলেটের যে পুলিশ কর্মকর্তার কপালে দুর্গতি নেমে আসলো। বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয় তাকে পরবর্তী সময়ে একই দিন এসএমপি পুলিশের কমিশনারের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তাকে ক্লোজড করা হয়।
জানা যায়, প্রেমের প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) সোহেল উদ্দিনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত-১৫-এর বিচারক নাজমিন আক্তার ইভার আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
Manual1 Ad Code
বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুসলেহ উদ্দিন জসিম। তিনি জানান, দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় দায়ের হওয়া প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় আদালত সোহেল উদ্দিনের জামিন আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।
অন্যদিকে বুধবার (০১ জুলাই) সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) সোহেল উদ্দিনকে ক্লোজড করা হয়েছে। একই আদেশে তাকে এসএমপির হেডকোয়ার্টারে তাকে সংযুক্তি করা হয়েছে। বুধবার (০১ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম।
Manual5 Ad Code
আদালত সূত্রে জানা যায়, সোহেল উদ্দিনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে সিআর-২৩৪১/২০২২ নম্বর মামলায় তিনি এতদিন জামিনে ছিলেন। গত মাসে মামলাটির বিচার শুরু হয়। সর্বশেষ গত ৯ জুন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হলে বুধবার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। একই দিনে তার বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলার চার্জ গঠনেরও তারিখ নির্ধারিত ছিল।
Manual3 Ad Code
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ফেসবুকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী রিফাত জাহান স্নিগ্ধার সঙ্গে সোহেল উদ্দিনের পরিচয় হয়। ২০২২ সালের ৩০ এপ্রিল তাদের বিয়ে হয়। পরে স্নিগ্ধা জানতে পারেন, সোহেল এর আগেই অন্য এক নারীকে বিয়ে করেছিলেন। এ ঘটনায় তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হলে যৌতুক দাবি, নির্যাতন, প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগে স্নিগ্ধা তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করেন। এছাড়া সহকারী কর কমিশনার (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) মোসা. তানজিনা সাথীও তার বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করেন।
সর্বশেষ জানা গেছে, ঢাকার মহানগর হাকিম আদালত-১৫ এর বিচারক নাজমিন আক্তার ইভার আদালতে গত ৯ জুন মঙ্গলবার বিবাদী সোহেল উদ্দিন প্রিন্সের উপস্থিতিতে দন্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য বুধবার (১ জুলাই) ধার্য রয়েছে। এই মামলায় সোহেল উদ্দিনের আইনজীবি আদালতে তার জামিন আবেদন করেছিলেন কিন্তু বিজ্ঞ আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন।
সিআর- ২৩৪১/২০২২ নম্বর মামলায় জামিনে ছিলেন এএসপি সোহেল উদ্দিন। গত মাসে এমামলায় তার বিচার শুরু হয়। এএসপি সোহেল উদ্দিনের বিরুদ্ধে আরও দুটো মামলায় গতকাল বুধবার বিচার কার্যক্রম শুরু হবার দিন ধার্য্য ছিল। গত তারিখে এই মামলাগুলোর চার্জ গঠনের কথা ছিল। কিন্তু আসামি পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত শেষ বারের মতো সময় দিয়ে ১ জুলাই চার্জ গঠনের তারিখ ধার্য করেন। এছাড়াও রিফাত জাহান স্নিগ্ধার দায়েরকৃত দুটো মামলার বিচার কার্যক্রমও ইতোমধ্যে আদালতে শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সিআর ১১১৮/২২ নং মামলার (যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারা) বিচার শুরু হয় এবং ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট সিআর ১৩৪৫/২৪ (প্রতারণা- ৪২০) মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
সিলেট মহানগর পুলিশ সূত্র জানায়, সম্প্রতি সোহেল উদ্দিন ছুটিতে ছিলেন। ছুটিকালীন সময়ে ব্যক্তিগত মামলায় কারাবন্দি হওয়ায় এ ঘটনায় এসএমপির কোনো দাপ্তরিক সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি সরকারি দায়িত্ব পালনকালে নয়, ব্যক্তিগত মামলার কারণেই কারাগারে গেছেন।সিলেট জেলা খবর
প্রসঙ্গত, চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার মনতলা গ্রামের মৃত মো. হাবিব উল্লার ছেলে মো. সোহেল উদ্দিন। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কোতোয়ালি থানার বর্তমান সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি)। ২০১৭ সালে ৩৬ তম বিসিএস পরীক্ষায় সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে উত্তীর্ণ হন । কিন্তু কর্মজীবনে তিনি একের পর এক নারীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন।