নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেট নগরের শাহজালাল উপশহর এলাকা থেকে গত রাতে এক কিশোরীকে (১৬) আটক করে স্থানীয় কিছু লোক। ওই কিশোরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি স্থানীয় একটি দোকানের ক্যাশ বাক্স চুরির চেষ্টা করছিলেন। পরে তাকে শাহপরাণ (রহ.) থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন স্থানীয়রা। যদিও থানায় ওই কিশোরীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি আটককারীরা।
Manual5 Ad Code
মঙ্গলবার এ ঘটনার একটি ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেখা যায় ওই কিশোরীকে কোমড়ে শিকল বেঁধে টেনে নিয়ে চলছেন এক যুবক। এসময় ওই কিশোরীটি অঝোরে কেঁদে চলছেন। তাকে বেশ কিছুটা পথ শিকল বেঁধে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। ভিডিওতে টেনে নেওয়া ব্যক্তির চেহারা দেখা যায়নি।
Manual1 Ad Code
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে উপশহর ডি-ব্লক মসজিদ মার্কেট এলাকার সড়কে শেকল বেঁধে ওই মেয়েকে টেনে নেওয়া হয়। এর আগে মসজিদ মার্কেট এলাকা থেকে তাকে আটক করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ কয়েকজন।
মসজিদ মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপশহর ডি-ব্লক মসজিদ মার্কেট এলাকার একটি দোকানে ক্যাশ বাক্স চুরির চেষ্টা করেন এক কিশোরী। এ সময় ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা মিলে ওই কিশোরীকে আটক করেন।
এসময় প্রথমে তাকে মারধর করে শেকল বেঁধে সড়কে হাঁটানো হয় বলে জানা গেছে।
তবে কারা মারধর করেন ও কারা শেকল বেঁধে সড়কে টেনে নেন তা জানা যায়নি।
Manual4 Ad Code
এব্যাপারে সিলেট শাহপারান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন মঙ্গলবার রাতে বলেন, গত সাড়ে রাত ১১টার দিকে স্থানীয়দেরর কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ওই মেয়েকে ধরে নিয়ে আসে। তার বয়স ১৫/১৬ বছর হবে। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, মেয়েটি দোকানের ক্যাশবাক্স চুরি করেছে। তবে তারা কেউই আমাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ করননি। এমনকি মেয়েকে থানায় নিয়ে আসার পর তারা কোনো সহযোগিতাও করেননি। পরে মেয়েটিকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ আইন, ২০০৯ (SMP Act)-এর ৮৯ ধারায় আদালতে সোপর্দ করা হয়।
কিশোরীকে শেকল বেঁধে সড়কে ঘুরানো প্রসঙ্গে ওসি বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউ এমন কাজ করে থাকলে তারা অন্যায় করেছেন।
Manual4 Ad Code
এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুদীপ্ত অর্জুন বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধি-র ৫৯ ধারা মতে কোনো সাধারণ নাগরিক আমলযোগ্য অপরাধ সংগঠনকারীকে আটক করতে পারেন। কিন্তু তাকে অনতিবিলম্বে পুলিশের কাছে অথবা নিকটবর্তী থানায় হস্তান্তর করতে হবে।
সুদীপ্ত বলেন, কেউ তা না করে যদি আটককৃত ব্যক্তিকে নিজে কোনোরূপ শাস্তি প্রদান করেন, বা কোমরে শেকল বেঁধে জনসমক্ষে হাঁটান বা কোনো ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন, তাহলে এরূপ আচরণ বা কাজ আইন পরিপন্থী এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।