প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুক পোস্ট: থানায় ১১ ঘন্টা জুবায়েরের সাথে যা হলো
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুক পোস্ট: থানায় ১১ ঘন্টা জুবায়েরের সাথে যা হলো
editor
প্রকাশিত অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ
Manual3 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর ছবিসহ ফেসবুকে একটি পোস্ট দেওয়ায় থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানার পাথর ব্যবসায়ী জুবায়ের আহমদকে। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হলে প্রায় ১১ ঘন্টা পর মুছলেকা নিয়ে মুক্তি দেওয়া হয় জুবায়েরকে।
মঙ্গলবার রাত ১২ টার দিকে বিএনপি নেতাদের জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরআগে মঙ্গলবার বেলা ১ টার দিকে তাকে থানায় ডেকে নেওয়া হয়।
এই ১১ ঘন্টা থানায় জুবায়েরের সাথে কী ঘটে? কীভাবেইবা তিনি থানায় যান?
Manual7 Ad Code
এ ব্যাপারে বুধবার জুবায়ের আহমদ বলেন, আমার ফেসবুকের স্ট্যাটাস দেখে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি আলী আকবর ও সিনিয়র সহসভাপতি শওকত আলী বাবুলকে কল দিয়ে বলেন- ‘বিষয়টা গোয়েন্দাদের কাছে চলে যাচ্ছে। বিষয়টা সমাধানের জন্য তাকে থানায় নিয়ে আসেন’।
জুবায়ের আহমদ বলেন, বিএনপি নেতাদের কাছ থেকে খবর পেয়ে আমি নিজেই বেলা ১ টার দিকে থানায় যাই। সেখানে বিএনপি নেতা আলী আকবর এবং শওকত আলী বাবুলও উপস্থিত ছিলেন।
জুবায়ের জানান, থানায় যাওয়ার পর আমাকে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। এরপর ওসি স্যার থানা থেকে বের হয়ে যান। এরপর কী ঘটেছে আমি কিছু বলতে পারি না।
এই পাথর ব্যবসায়ী বলেন, রাত ৮টার দিকে ওসি থানায় আসেন। তখন আমাকে তার কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শুনেছি আমার ব্যাপারে সাংবাদিকরা ফোন দিচ্ছিলেন ওসিকে। এরপর আমার মোবাইল ফোন চেক করা হয়। ফেসবুকে আর কোন স্ট্যাটাস দিয়েছি কী না তা জানতে চান।
Manual8 Ad Code
ফেসবুক ও মোবাইল ফোন ঘেঁটে আর কিছু না পেয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় জানিয়ে জুবায়ের বলেন, ছাড়ার আগে সাদা কাগজে আমার সাক্ষর নিয়েছে। বিএনপি নেতারাও মুছলেকা দিয়েছেন।
তবে তিনি থানায় যাওয়ার পর গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার কারণে তার মুক্তি পাওয়াকে সহজকেরেছে জানিয়ে জুবায়ের বলেন, শুনেছি আমার বিরুদ্ধে মামলারও প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তবে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার কারণে তা আর হয়নি।
Manual1 Ad Code
গত ৮ অক্টোবর রাতে জুবায়ের আহমদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সিলেট বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের সাথে সাক্ষাৎ করার তিনটি ছবি আপলোড করে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন।
পোস্টে তিনি লেখেন- ‘১২ তারিখ নির্বাচনের পরে ১৩ তারিখ সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার কথা ছিলো। অথচ কিছুই ঠিক হলো না। মন্ত্রী মহোদয় আমাদের জীবন কঠিন থেকে কঠিনতম করে দিলেন।’
মন্ত্রীকে নিয়ে এমন পোস্ট করায় স্থানীয় বিএনপি নেতারা তাকে থানায় ডেকে নিয়ে আসেন।
পরে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি শওকত আলী বাবুল ও বিএনপি নেতা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান লাল মিয়ারা জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেয় কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ।
ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ উসমান গনি বলেন, জুবায়ের আহমদের দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসের জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। সব যাচাই-বাছাই করে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি শওকত আলী বাবুল ও ভাইস চেয়ারম্যান লাল মিয়ারা জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
যিনি থানায় নিয়ে আসছিলেন তার জিম্মায় জুবায়েরকে ছাড়া প্রসঙ্গে ওসি বলেন, তিনি থানায় নিয়ে আসছিলেন, তাই তার জিম্মায়ই ছাড়া হয়েছে।
যাচাই-বাছাই করে জুবায়েরের কোনো অপরাধ পাওয়া গেছে কী না এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, যাচাই-বাছাই করেই তাদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
Manual1 Ad Code
মঙ্গলবার এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ উসমান গনি বলেন, ‘জুবায়ের আহমদ নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। কী কারণে আটক করা হয়েছে, সেটা এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি আলী আকবর তাকে আত্মসমর্পণ করাতে নিয়ে আসছিলেন।’
‘১২ তারিখ নির্বাচনের পর ১৩ তারিখ সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার কথা ছিল’ এ কথার জন্য কেন পুলিশকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে এমন প্রশ্নে ওসি বলেন, ‘আইন মোতাবেক আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারি। অপরাধ আছে। এখন এই অপরাধটা সে করেছে কি না, তার মোবাইল কেউ ব্যবহার করছে কি না সেটা যাচাই করছি।’