ঈদুল ফিতরের দিন দুপুর থেকেই বিয়ানীবাজারের পর্যটন কেন্দ্রগুলো মুখরিত হয়ে ওঠেছে। এখনো সেইসব পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে উপচে পড়া ভিড়। এখানকার বিভিন্ন পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো মুখরিত হয়ে উঠেছে দর্শনার্থীদের পদচারণায়। উপজেলার বিজিবি-৫২’র তৈরী কৃত্রিম বিনোদন কেন্দ্র, কাকরদিয়ার কাকরভিলা, লাউতার আরশিনগর, শেওলা স্থলবন্দরসহ পৌরশহরের প্রাচীণতম জমিদার বাড়ি লোকে লোকারণ্য।
সন্ধ্যার আকাশে শঙ্খচিলের দল উড়ে/বাগানে প্রজাপতি দল বেধে ঘুরে ফিরে/ হাসনাহেনা ফুলে সুভাসিত চারিধার/ প্রকৃতির মাঝে খুজে পাই শ্রান্তির পারাবার-কবির সেই শ্রান্তির পারাবার পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে খুঁজছেন বিয়ানীবাজারের দর্শনার্থীরা।
গত কয়েক বছর থেকে ঈদের সময় বিয়ানীবাজারবাসী ভিড় করছেন কুশিয়ারা নদীর বুকে জেগে ওঠা বালু চরে। সেখানে ছবি তুলে প্রকৃতির মিশেলে নিজেকে ফুরফুরে করার চেষ্টা করেন। অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে নৌকায় চড়ে বসেন। বালু চরে ঘুরতে আসা পর্যটক শাহজাহান সিদ্দিক বলেন, নদীর মৃদু ঢেউ আর প্রকৃতির মিশেলে বিকালের সময়টা বেশ ভালো কাটে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অবলোকনের জন্য খোলামেলাভাবে এই পরিবেশে নিজেরাই এই স্থানে ঘুরতে আসি। কবি আজিজ ইবনে গনি বলেন, আমার বাড়ি এই এলাকায় হওয়ায় বিনোদন সময়ে দেখতে পাই মানুষের উচ্ছ্বাস। নৌকায় চড়ে শিশুকালের অনেক স্মৃতি মনে করেন ভ্রমণ পিপাসুরা। এ ছাড়াও উপজেলার গজারাই এলাকায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে তোলা হচ্ছে আরশিনগর নামে একটি বিনোদন কেন্দ্র। পাখির প্রতি অকৃত্রিম মায়ায় পর্যটন স্পটের ভিতরে গড়ে তোলা ছাউনী ঘরের চতুর্দিকে কৃত্রিমভাবে বাবুই পাখির বাসা তৈরী করেছেন প্রতিষ্টানের মালিক যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ফখরুল ইসলাম। এছাড়াও বিভিন্ন গাছের সাথে হরেক প্রজাতির পাখির বাসা গড়ে তোলা হয়েছে। দর্শনার্থীরা জানান, ‘বাড়ির পাশে আরশি নগর’ এতো সৌন্দর্য্যে ভরপুর হয়ে উঠবে কখনো ভাবিনি।’ পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা শিরিন সুলতানা কলি বলেন, গ্রামীণ নির্মল পরিবেশে তৈরি আরশি নগর। এখানে এসে এর সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে পেরে আনন্দিত। আরশিনগরের ব্যবস্থাপক ইউনুছ আহমদ জানান, ঈদ উপলক্ষে হাজারো মানুষ প্রতিদিন এখানে ভিড় করছেন। কেবল বিয়ানীবাজার নয়, প্রত্যন্ত এলাকা থেকেও মানুষ আরশিনগরে ছুটে আসছেন।
Manual2 Ad Code
পৌরশহরের লাসাইতলা অবস্থিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি-৫২)’র কৃত্রিম পর্যটন কেন্দ্র। এখানকার কৃত্রিম ঝর্ণাধারা আর লেকে নৌকা চড়ার মজাই আলাদা।
Manual7 Ad Code
সবুজ মাঠ আর গাছ-পালায় ঘেরা কাকর ভিলার সৌন্দর্য অত্যন্ত নান্দনিক। এখানের পরিচ্ছন্ন খোলা সবুজ মাঠ, বাগানের ছাউনির নিচ বা পুকুর পাড়ের বসার জায়গায় বসে কাটিয়ে দিতে পারেন ঘন্টার পর ঘন্টা গল্প আড্ডা আর গানে। এখানে আছে নিজে রান্না করে খাওয়ার সুযোগ। অনেকে শখের বসে মাটির চুলার খাবার পছন্দ করেন তাই মাটির চুলা বা গ্যাসের চুলায় রান্না সরবরাহের সাথে থাকছে বিভিন্ন রকম খাবার সুবিধা। সময়টা আরো উপভোগ্য করার জন্য রয়েছে ফায়ারক্যাম্প, নৌকা ভ্রমণ, গরম গরম পিঠা, মাটির কাপে চা ইত্যাদি। খেলাধুলার জন্য রয়েছে ইনডোর গেইমের ব্যবস্থা। বিশাল পুকুরে আছে সাঁতার কাটার সুযোগ।