বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন সর্বশেষ চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। একটি বৃহৎ ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় দায়িত্ব পাওয়ার পর সেই সময় থেকেই তাঁকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীরা। মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য।
Manual3 Ad Code
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ নির্বাচনী আসন নিজেদের করে নিতে সাবেক ছাত্রনেতা সেলিম উদ্দিনকে দূর্বার গতিতে ছুটে চলছে। সৎ, ত্যাগী ও যোগ্য প্রার্থী হিসেবে এই আসনে সেলিম উদ্দিনকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছে দলীয় নেতাকর্মীরা। বাড়ি-বাড়ি, ওয়ার্ড-ইউনিয়ন সর্বত্র চষে বেড়াচ্ছেন তিনি। নিজ দলের কর্মী এবং সমর্থকদের দিক-নির্দেশনা দেয়ার পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে তাদের দাবীর কথা শুনছেন। সেই সাথে আগামী দিনে ক্ষমতায় আসার সুযোগ হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দুই উপজেলার সড়ক সংস্কারসহ প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করবেন-এমন বার্তাও দিচ্ছেন।
পৌর জামায়াতের যুব শাখার নেতা তারিন হাসান জানান, দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেলিম উদ্দিনকে কাছে পেয়ে বেশ উজ্জীবিত দুই উপজেলার যুবকরা। একজন কেন্দ্রীয় সাবেক ছাত্রনেতা তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ের কথা বুঝতে পারবেন এমনটাই প্রত্যাশা করছেন তিনি।
বিভিন্ন সূত্র জানায়, জামায়াতে ইসলামীর বিপুল সংখ্যক কর্মী এবং সমর্থকেরা প্রতিটি ইউনিয়নে গিয়ে দলকে চাঙ্গা করার পাশাপাশি নির্বাচনের মাঠ গোছানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আর সেই কাজে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিয়ানীবাজারের এক নিভৃত জনপদের সন্তান মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে নির্বাচন হলে সেলিম উদ্দিন সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবেন বলে দাবি তার দলীয় অনুসারীদের। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীরা এখনো মাঠ গোছানো শুরু করেননি।
Manual1 Ad Code
বিয়ানীবাজার উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা ফয়জুল ইসলাম বলেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জবাসীর একদম কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছে। দুই উপজেলার মানুষের মনের আকাংখা বোঝে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এছাড়াও আমরা সাংগঠনিকভাবে নির্বাচনকেন্দ্রিক কাজগুলো গুছিয়ে আনার চেষ্টা করছি। আমাদের কর্মীরা প্রতিটি ইউনিয়নে ভোটারদের কাছে গিয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন আদায় করার চেষ্টা করছে। পৌর আমীর কাজী জমির হোসাইন জানান, গণতন্ত্রের জন্য নির্বাচনের বিকল্প নেই। এ ব্যাপারে কারও কোনো দ্বিমত থাকার কথা নয়। এবার বহু ত্যাগের বিনিময়ে সুযোগ এসেছে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের। আবার একটা যেনতেন নির্বাচন করলে তা জুলাই বিপ্লবের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে। জামায়াত একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচনী সড়কে হাঁটছে।
বিয়ানীবাজার-গোলাপপঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন জানান, দলের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি মাঠে কাজ করছি। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট-৬ আসনে নির্বাচন করতে সবার কাছে যাচ্ছি। এই আসনের ভোটাররা ইনসাফের প্রতীক দাড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে তাঁকে বিজয়ী করবে বলে তিনি আশাবাদী।