বিয়ানীবাজারে রাতে জবাই করা গাভি সকালে হয়ে যায় ‘ষাঁড়’
বিয়ানীবাজারে রাতে জবাই করা গাভি সকালে হয়ে যায় ‘ষাঁড়’
editor
প্রকাশিত অক্টোবর ২১, ২০২৫, ০৯:২৬ পূর্বাহ্ণ
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অ্যানথ্রাক্স রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। রোগাক্রান্ত গরুর মাংস খেয়ে মানুষের অসুস্থতার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে। এই আতঙ্কের মধ্যেই বিয়ানীবাজার পৌরশহরসহ উপজেলার কিছু অসাধু মাংস বিক্রেতা অধিক মুনাফার সুযোগ নিচ্ছেন। রোগা, অসুস্থ গাভি জবাই করে তা ষাঁড়ের মাংস হিসেবে বিক্রি করছেন তারা, যা ক্রেতাদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। প্রশাসনের লোকবলের ঘাটতি ও তদারকির অভাবে এই অপকর্ম অব্যাহত আছে।
বিয়ানীবাজারের বিভিন্ন হাটবাজারে রোগা, হাড্ডিসার গাভি জবাইয়ের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। রাতে জবাই করা এসব গাভির মাংস সকালে তরতাজা ষাঁড়ের মাংস হিসেবে প্রতারণা করছে বিক্রি করা হচ্ছে। পৌরশহরে এমন ঘটনা ঠেকাতে কিছুটা তদারকি থাকলেও উপজেলার হাট-বাজারে তা একদম নেই। তাছাড়া গত প্রায় ৩-৪ বছর থেকে পৌরশহর উপজেলার যত্রতত্র মাংসের দোকান খোলা হচ্ছে। সচেতনমহলের দাবী, পৌরশহরের সকল মাংসের দোকান বন্ধ করে কিচেন মার্কেটের দু’তলায় নিয়ে গেলে ভেজাল মাংস বিক্রি কিছুটা কমবে।
বিয়ানীবাজারে মাংসের চাহিদা সারা বছরই থাকে। এরপরও বৃহস্পতিবার রাতে জবাই বেশি হয়, কারণ শুক্রবার ছুটির দিনে মাংসের চাহিদা থাকে বেশি।
মাংস ক্রেতা আজিজুল বলেন, ‘মাসে তিন-চারবার মাংস কিনি। কিন্তু বাজারে গেলে বোঝা যায় না কোনটা গাভির মাংস, কোনটা ষাঁড়ের। কসাইরা একটি ষাঁড় জবাই করে তার পুরুষাঙ্গ ঝুলিয়ে সব মাংসকে ষাঁড়ের বলে চালায়।’
Manual1 Ad Code
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুদি দোকানি বলেন, ‘রাতে গাভি জবাই হলেও সকালে সব ষাঁড়ের মাংস হয়ে যায়। তদারকির অভাবে ক্রেতারা ঠকছেন।’
জবাইয়ের আগে পশু হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সার্টিফিকেট (এনওসি) নেওয়ার বিধান থাকলেও, তা মানা হয় না। বেশিরভাগ কসাইয়ের নিবন্ধন নেই, ফলে যাচ্ছেতাই জবাই চলছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস ও পৌরসভা লোকবলের ঘাটতির অজুহাতে তদারকি করতে পারছে না।
Manual3 Ad Code
বিয়ানীবাজার উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মবিন হাই বলেন, ‘অ্যানথ্রাক্সের ঝুঁকি এখানে নেই। তবে রোগা গরু জবাইয়ের বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হবে।’
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মুস্তাফা মুন্না বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’