বিয়ানীবাজারের ৪০ হাজার প্রবাসী পোস্টাল ভোটিংয়ে সাড়া দিবেন কী?
বিয়ানীবাজারের ৪০ হাজার প্রবাসী পোস্টাল ভোটিংয়ে সাড়া দিবেন কী?
editor
প্রকাশিত নভেম্বর ১৩, ২০২৫, ১১:০০ পূর্বাহ্ণ
Manual5 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
আগামী নির্বাচন উপলক্ষে ডাকযোগে প্রবাসীদের ভোট নেওয়ার জন্য এরইমধ্যে জোরেশোরে প্রচারে নেমেছে নির্বাচন কমিশন। বিয়ানীবাজারের প্রায় ৪০ হাজার প্রবাসী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলেও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কী তারা ভোট প্রদান করবেন-এ প্রশ্ন খোদ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের। গত বছর দেশের বাইরে থেকে উপজেলার মাত্র ২৩ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছিলেন।
জানা যায়, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত অ্যাপে নিবন্ধিত প্রবাসীর কাছে নির্দিষ্ট সময়ে খাম পাঠানো হবে। ব্যালট পেপারে ক্যান্ডিডেটদের নাম থাকবে না। শুধু থাকবে প্রতীক এবং প্রতীকের পাশে একটা স্পেস করে দেওয়া থাকবে। সেই স্পেসে তারা টিক চিহ্ন অথবা ক্রস চিহ্ন দিয়ে ভোট দেবেন। একটা বড় খামের মধ্যে তিনটা খাম দিয়ে প্রবাসীদের ঠিকানায় পোস্ট করা হবে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মাধ্যমে। একটা ব্যালট পেপার, আরেকটা খামের ভেতরে ভরা থাকবে। ভোট দেওয়ার পর আরেকটা খাম ফেরত পাঠাবে। এর মধ্যে নির্দেশনাও থাকবে। তফশিল ঘোষণার পর আলোচিত প্রবাসী ভোট নিয়ে কাজ শুরু করা হবে বলে জানা গেছে।
Manual5 Ad Code
এদিকে প্রবাসী বিয়ানীবাজারবাসীকে ভোটে আনতে নজর দিয়েছে প্রতিদ্বন্ধি দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। বিএনপির প্রাথমিক পর্যায়ের মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী মাসখানেক আগে ইউরোপ সফর করে নিজের পক্ষে সমর্থন চেয়ে একাধিক মতবিনিময় সভা করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনও অনলাইন সভার মাধ্যমে প্রবাসী বিয়ানীবাজারবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। প্রবাসীদের ভোটে আনতে নানাভাবে উৎসাহিত করতে পরামর্শ সভা করেছেন প্রধান এই দুই প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী।
Manual7 Ad Code
মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী সাজু জানান, দেশের ভোট নিয়ে আগ্রহ থাকলেও নানা কারনে ভোট প্রদান সম্ভব হয়না। নিবন্ধন, প্রচারণা এবং এক ধরনের অনীহা থেকে ভোট দানে বিরত থাকেন প্রবাসী। কানাডা প্রবাসী ফুজেল আহমদ বলেন, প্রবাসের সকল রাজনৈতিক শাখা কমিটির নেতৃবৃন্দ ভোটাধিকার প্রয়োগ করলে কয়েক লক্ষভোট হয়ে যাবে। কিন্তু রাজনীতিতে তারা সক্রিয় হলেও ভোট দানে অনাগ্রহী।
Manual2 Ad Code
বিয়ানীবাজার উপজেলার প্রবাসীদের একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যে আর বাকী প্রবাসীরা ইউরোপ-আমেরিকায় বসবাস করেন। উপজেলার রাজনীতিতে তারা বেশ সক্রিয়। নিজ-নিজ রাজনৈতিক দলের পক্ষে তারা ভার্চুয়াল যুদ্ধেও সামিল হন। পছন্দের প্রার্থী নিয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। ভোটকে কেন্দ্র করে অনেকেই দেশে আসেন। তবে প্রবাসী ভোটে তারা আগ্রহী নয় কেন, তা সঠিকভাবে কেউ জানাতে পারেননি।
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো: ইকবাল আহসান বলেন, ডাকযোগে ভোট নিতে যে খরচ, সেই তুলনায় ভোটদানের হার বেশিরভাগ দেশেই খুব কম হয়। তারপরও প্রবাসীদের অবদানের কথা বিবেচনা করে তাদের ভোটের সুযোগ দেওয়া ‘জরুরি’। তিনি আরোও বলেন, ইতোমধ্যে আরপিওতে প্রবাসী ভোটিং পদ্ধতি যুক্ত করা হয়েছে; এটা নিয়ে গাইড লাইন দেওয়া হবে। মার্কাসহ ব্যালট পাঠানো হবে প্রবাসীদের কাছে। দেশের জাতীয় ভোটে তারা অংশ নিলে সবার জন্য মঙ্গল।