জুলাই সনদ নিয়ে দলগুলো একমত না হলে সরকারের সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার
জুলাই সনদ নিয়ে দলগুলো একমত না হলে সরকারের সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার
editor
প্রকাশিত নভেম্বর ১১, ২০২৫, ০৮:১৫ পূর্বাহ্ণ
Manual3 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো অভিন্ন অবস্থান না নেওয়ায় সরকার বৃহস্পতিবার নিজ উদ্যোগে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এক সপ্তাহের সময়সীমা শেষ হলেও দলগুলো এখনো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।
জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, ‘আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। না পেলে ১৩ নভেম্বর আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’
পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘দলগুলোকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এখন সরকারই তাদের দায়িত্ব ও এখতিয়ারের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে। সরকার দরজা সব দলের জন্যই খোলা রেখেছে, তবে নতুন কোনো আলোচনার আমন্ত্রণ এখনও আসেনি।’
Manual3 Ad Code
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার কয়েকজন উপদেষ্টা বৈঠকে বসে বর্তমান পরিস্থিতি ও বৃহস্পতিবারের উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকের আলোচ্য বিষয় নির্ধারণ করবেন। ৩ নভেম্বর দলগুলোকে এক সপ্তাহের মধ্যে মতপার্থক্য মিটিয়ে অভিন্ন অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, এই অচলাবস্থা দেশের গভীর কাঠামোগত সংকটের প্রতিফলন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান বলেন, ‘দলগুলো জুলাই সনদকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। বল এখন সরকারের কোর্টে। কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা না ঘটলে প্রধান উপদেষ্টা সিদ্ধান্ত নেবেন।’
Manual6 Ad Code
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘সরকার সর্বোচ্চ এক সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা উচিত। প্রতিটি সিদ্ধান্ত সব দলের স্বার্থের সঙ্গে মিলবে না, সেটি মেনে নিতে হবে।’
Manual6 Ad Code
তবে রাজনৈতিক দলগুলো এখনও নিজেদের অবস্থানে অনড়। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে ব্যাহত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, ‘সব দল নয় মাস ধরে ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে কাজ করেছে, কিন্তু বিলম্বিত পদক্ষেপের কারণে জটিলতা তৈরি হয়েছে।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক সরওয়ার তুষার বিএনপি ও জামায়াতকে দায়ী করে বলেন, ‘দুই দলই শুধু নিজেদের স্বার্থের কথা ভাবছে। বিএনপি আগে ঐকমত্য কমিশন, জুলাই সনদ ও গণভোট—সবকিছুর সঙ্গেই একমত ছিল, এখন অস্বীকার করছে। জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি না থাকলে কোনো নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব নয়।’
Manual3 Ad Code
সরকার আগামী বৃহস্পতিবার নিজ উদ্যোগে সিদ্ধান্ত নিলে এটি দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও নির্বাচনকে সরাসরি প্রভাবিত করবে।