দ্বিতীয় বিয়ে করায় প্রথম স্ত্রীর বাড়িতে শিকলবন্দি যুবক
দ্বিতীয় বিয়ে করায় প্রথম স্ত্রীর বাড়িতে শিকলবন্দি যুবক
editor
প্রকাশিত ডিসেম্বর ১, ২০২৫, ০৫:১৫ অপরাহ্ণ
Manual7 Ad Code
নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় দ্বিতীয় বিয়ে করায় আবদুর রহমান (২৪) নামের এক যুবককে প্রথম স্ত্রীর বাড়িতে পাঁচদিন ধরে শিকলবন্দি করে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
Manual3 Ad Code
জাহাজমারা ইউনিয়নে কাটাখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার (১ ডিসেম্বর) ঘটনাটি জানাজানির পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত আব্দুর রহমান বুড়িরচর ইউনিয়নের রেহানিয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। প্রথম স্ত্রী হাসিনা বেগম (২১) জাহাজমারা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাটাখালী গ্রামের আবুল কাশেমের মেয়ে।
Manual8 Ad Code
হাসিনা বেগম বলেন, তিন বছর আগে আমাদের বিয়ে হয়েছে। আমি দুই বছর ধরে বাবার বাড়িতে থাকি। বাবার বাড়িতে আসার পর স্বামী খোঁজ নিতেন না। পরে জানতে পারি তিনি আবারও বিয়ে করেছেন। এ কারণে ঘরের লোকদের দিয়ে কৌশলে ডেকে আনা হয়েছে।
Manual1 Ad Code
হাসিনা বেগমের দাবি, আমাদের বিয়ের সময় এক ভরি সোনার গয়না, এক লাখ টাকা এবং আসবাবপত্র যৌতুক দেওয়া হয়। কিন্তু বিয়ের ছয় মাস না যেতেই সংসারে শুরু হয় নানা অশান্তি। অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোকে কেন্দ্র করে কয়েকবার শালিসও হয়। না শোধরানোয় আমি চলে আসি।
তিনি আরও বলেন, বাবার বাড়িতে আসার পর দুই বছর ধরে স্বামী আমার খোঁজখবর নিতেন না। পরে জানতে পারি তিনি আবারও বিয়ে করেছেন। এ পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে স্ত্রীর অধিকার আদায় করার জন্য তাকে আটকে রেখেছি।
Manual6 Ad Code
দুই বিয়ের কথা স্বীকার করে শিকলবন্দি স্বামী বলেন, বিয়ের তিন বছর ধরে কোনো সন্তান হয়নি আমাদের। এ নিয়ে কলহ হয়। একপর্যায়ে আমার স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যান। গত এক-দেড় মাস আগে আমি আরেকটি বিয়ে করি। এরপর শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমাকে ধরে এনে মারধর করেন এবং পায়ে শিকল দিয়ে আটকে রাখেন।
শিকলবন্দী যুবকের বাবা আনোয়ার হোসেন বলেন, গত বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে যান শ্বশুরবাড়ির লোকজন। খবর পেয়ে আমি গিয়ে দেখি, ছেলেকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে হাতিয়া থানায় করা হয়েছে।
হাতিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনিছুর রহমান বলেন, অভিযোগ দিয়েছেন কি না, আমার জানা নাই। বিষয়টি জাহাজমারা তদন্ত কেন্দ্র দেখবে।
জাহাজমারা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) খোরশেদ আলম বলেন, ঘটনাটি লোকমুখে শুনেছি। এখনো অভিযোগ পাইনি। পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।