গুম করে আয়নাঘরে নির্যাতন: ট্রাইব্যুনালে হাজির তিন সেনা কর্মকর্তা
গুম করে আয়নাঘরে নির্যাতন: ট্রাইব্যুনালে হাজির তিন সেনা কর্মকর্তা
editor
প্রকাশিত ডিসেম্বর ৭, ২০২৫, ০৫:১২ পূর্বাহ্ণ
Manual2 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে আয়নাঘরে গুম-নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সেনা কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।
Manual1 Ad Code
রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে ঢাকার সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে পুলিশ তাদের ট্রাইব্যুনাল-১ এ নিয়ে আসে। তবে তাদের বহনকারী সবুজ রঙের ‘বাংলাদেশ জেল-প্রিজন ভ্যান’-এর ছাদ ভাঙা অবস্থায় দেখা যায়। জানা গেছে, ট্রাইব্যুনালে আসার পথে একটি ফ্লাইওভারে ওঠার সময় গাড়িটির ছাদে থাকা এসি ভেঙে পড়ে।
হাজির করা তিন কর্মকর্তা হলেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।
Manual1 Ad Code
এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লে. জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লে. জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, সাবেক ডিজি লে. জেনারেল তাবরেজ শামস চৌধুরী, সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক, মেজর জেনারেল তৌহিদুল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবির আহাম্মদ এবং লে. কর্নেল (অব.) মখসুরুল হক।
ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে আজ এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ সাবেক ও বর্তমান মোট ১৩ সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
Manual6 Ad Code
গত ২৩ নভেম্বর অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আজকের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। একই সময়ে পলাতকদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেন ট্রাইব্যুনাল। স্বেচ্ছায় আত্মপক্ষ সমর্থনে লড়তে চাইলে শেখ হাসিনার আইনজীবী হিসেবে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেডআই খান পান্না দায়িত্ব নেন। তবে তিনি শারীরিক অসুস্থতার কথা বলে ৩ ডিসেম্বর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালে তার স্থলাভিষিক্ত হন মো. আমির হোসেন।
গত ২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা তিন কর্মকর্তা প্রথমবারের মতো ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়েছিলেন। শুনানি শেষে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে পলাতকদের হাজিরের জন্য সাত দিনের মধ্যে দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে, গত ৮ অক্টোবর প্রসিকিউশন এ মামলায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে সকলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।