প্রবাসীর স্ত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে গিয়ে পুলিশ সদস্য আটক
প্রবাসীর স্ত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে গিয়ে পুলিশ সদস্য আটক
editor
প্রকাশিত এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ০৭:০০ পূর্বাহ্ণ
Manual1 Ad Code
ডোমার (নীলফামারী) সংবাদদাতা:
নীলফামারীর ডোমারে দুই সন্তানের জননী এক প্রবাসীর স্ত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে গিয়ে আটক হয়েছেন আতিকুর রহমান নামে এক পুলিশ সদস্য। তিনি নীলফামারী পুলিশ লাইন্সে কনস্টেবল পদে কর্মরত।
Manual7 Ad Code
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে ডোমার সদর ইউনিয়নের হুজুরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই প্রবাসীর স্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দিলে পরিবারের লোকজন তাকে আটক করে রাখে। পরে রাত ১১টার দিকে মুচলেকা নিয়ে ডোমার থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
আটক আতিকুর রহমান কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার খলিলগঞ্জ হরিরামপুর এলাকার হোসেন আলীর ছেলে। এর আগে তিনি ডোমার থানায় কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
জানা গেছে, ডোমার থানায় কর্মরত থাকার সময় আতিকুরের সঙ্গে ওই নারীর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে ‘ধর্ম বাবা-মা’ সম্পর্ক তৈরি হয়। সেই সুবাদে বাড়িতে যাতায়াতের সময় প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে তার যোগাযোগ শুরু হয়। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে আলাপ হতো।
প্রায় চার মাস আগে পারিবারিক সমস্যার কারণে ওই নারী আতিকুরের সঙ্গে নীলফামারী আদালতে আইনি পরামর্শ নিতে যান। বিষয়টি জানাজানি হলে শ্বশুরবাড়িতে বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং এরপর থেকে ওই নারী বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।
ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানান, শুক্রবার জুমার নামাজের পর সমঝোতার মাধ্যমে তাকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় আতিকুর সেখানে উপস্থিত হয়ে তাকে শ্বশুরবাড়িতে না পাঠিয়ে নিজের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এতে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে একটি ঘরে আটকে রাখেন।
প্রবাসীর স্ত্রী বলেন, “শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে আতিকুরের যোগাযোগ থাকায় তার যাতায়াত ছিল। সেখান থেকেই আমাদের মধ্যে কথা বলা শুরু হয়। আমি আমার সংসারের সমস্যা তার সঙ্গে শেয়ার করতাম। পরে আইনি পরামর্শ নিতে তার সঙ্গে আদালতে গেলে বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। এখন আমি বাবার বাড়িতে আছি। আমার সংসার ভেঙে গেলে এর দায় আতিকুরকেই নিতে হবে।”
মেয়েটির শ্বশুর জানান, আতিকুর তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে বাড়িতে যাতায়াত করতেন। চার মাস আগে ওই নারীকে নিয়ে বাইরে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এরপর থেকে তাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ বন্ধ থাকলেও আতিকুর নিজ থেকেই বাড়িতে যাতায়াত করতেন।
Manual8 Ad Code
অভিযুক্ত আতিকুর রহমান বলেন, “শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণে আমি তাদের খোঁজ নিতে যেতাম। মেয়েটির দাম্পত্য সমস্যা থাকায় আমি বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। এ সময় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা আমাকে আটকে রাখে।”
Manual7 Ad Code
ডোমার সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুম আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আটক পুলিশ সদস্য বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে ওই নারীর বাড়িতে গিয়েছিলেন। পরে পরিবারের লোকজন তাকে আটকে রেখে মুচলেকা নিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
Manual3 Ad Code
নীলফামারী পুলিশ লাইন্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (আরআই) মো. বদিউজ্জামান জানান, “আতিকুর রহমান শুক্রবার রোল কলে অনুপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি শনিবার সকালে যোগদান করেন। আমরা শুনেছি, তাকে ডোমার থানা পুলিশ উদ্ধার করেছে।”