বাড়িতে বাবার লাশ রেখে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিল ছেলে
বাড়িতে বাবার লাশ রেখে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিল ছেলে
editor
প্রকাশিত মে ২১, ২০২৬, ০৫:২৩ পূর্বাহ্ণ
Manual7 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে আবতাহি উদ্দিন লাবিব নামের এক পরীক্ষার্থী। বুধবার (২০ মে) সকাল ১০টায় নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে জীববিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নেয় সে। লাবিব নোয়াখালী জিলা স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।
লাবিবের বাবা চাটখিল মহিলা ডিগ্রি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মফিদুল আলম আরজু। সোমবার (১৯ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর। তিনি নোয়াখালী সদর উপজেলার জেলা বোর্ড কলোনীর বাসিন্দা ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ছিল লাবিবের এসএসসি পরীক্ষার শেষ দিন। বাবার মৃত্যুর শোক বুকে নিয়েই সকালে পরীক্ষাকেন্দ্রে যায় সে। পরীক্ষা শেষে বাড়িতে ফিরে বাবার জানাজা ও দাফনে অংশ নেয়। এসময় সহপাঠীরাও তার পাশে ছিলেন।
বুধবার বাদ জোহর নোয়াখালী কারামাতিয়া আলিয়া মাদরাসা মাঠে মফিদুল আলমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে জেলা পরিষদ কলোনী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
Manual2 Ad Code
পরিবারের সদস্যরা জানান, হঠাৎ শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে মফিদুল আলমকে ঢাকায় নেওয়া হয়। একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আত্মীয়ের বাসায় অবস্থানকালে তিনি আকস্মিক অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। চিকিৎসকদের ধারণা, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
শিক্ষাজীবনে মফিদুল আলম ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। তিনি ১৯৮৭ সালে কক্সবাজারের উখিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৮৯ সালে কক্সবাজার সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৯৯৩ সালে বিএসসি (অনার্স) ও ১৯৯৪ সালে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৯৯ সালের ১ মার্চ তিনি চাটখিল মহিলা ডিগ্রি কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘ প্রায় ২৭ বছর ধরে তিনি সুনাম ও নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষকতা করে আসছিলেন।
Manual3 Ad Code
সহকর্মীরা জানান, তিনি প্রতিদিন সোনাপুরের বাসা থেকে চাটখিল মহিলা কলেজে যাতায়াত করতেন। শিক্ষার্থীদের পাঠদানে নিবেদিত এই শিক্ষক প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েও নিয়মিত ক্লাস নিতেন। সহজ ও সাবলীল পাঠদানের কারণে শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয়।
Manual4 Ad Code
তার মৃত্যুতে কলেজের গভর্নিং বডি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কলেজ প্রশাসন এক শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।
Manual2 Ad Code
চাটখিল মহিলা ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ ফারুক সিদ্দিকী ফরহাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, একজন বাবার স্বপ্ন ছিল সন্তানের সফলতা, আর সেই স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ববোধ থেকেই হয়তো লাবিব শোকের মাঝেও পরীক্ষার হলে বসেছে। বাবাকে হারানোর এই বেদনা ভাষায় প্রকাশের নয়। মরহুম মফিদুল আলম স্যার ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ও আদর্শ মানুষ। তার কর্ম ও ভালোবাসা শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন এবং লাবিবসহ শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই কঠিন সময় মোকাবেলার শক্তি দান করুন।