‘রাগ করলা, কথা ঠিক না বেঠিক?’ এ কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হঠাৎ করেই ভাইরাল হয়েছে। ফেসবুক, টিকটক কিংবা ইউটিউব যেখানেই স্ক্রল করা হোক না কেন বারবার ভেসে উঠছে এ কথা। অনেকেই মনে করছেন, এটি কোনো কবিরাজের বাস্তব কথা।
তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভাইরাল হওয়া সেই কবিরাজ আসলে কোনো কবিরাজ নন, তিনি একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর।
Manual7 Ad Code
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কবিরাজ রূপে ভাইরাল হওয়া ঈমান আলী বর্তমানে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকায় বসবাস করেন। প্রায় দুই যুগ আগে লালমনিরহাট জেলা থেকে গাজীপুরে আসেন তিনি। বর্তমানে বিভিন্ন কনটেন্ট নির্মাতা ও নাট্যদলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করছেন। মঙ্গলবারও একটি ভিডিও শুটিংয়ের জন্য কালিয়াকৈর উপজেলার একটি রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবে এখন ‘রাগ করলা’ সংলাপটি ব্যাপক জনপ্রিয়। অনেকেই তাকে সত্যিকারের কবিরাজ মনে করলেও বাস্তবে তিনি একজন অভিনেতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে সামাজিক সচেতনতা ও হাস্যরসাত্মক ভিডিও তৈরি করেন তিনি।
Manual4 Ad Code
সম্প্রতি একটি ফেসবুক ও ইউটিউব কনটেন্টের জন্য কবিরাজের চরিত্রে অভিনয় করেন ঈমান আলী। সেখানে তার বাচনভঙ্গি, চোখের ইশারা এবং বিশেষ ভঙ্গিতে বলা ‘রাগ করলা, কথা ঠিক না বেঠিক’ সংলাপটি মুহূর্তেই নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। অল্প সময়ের মধ্যেই লাখ লাখ ভিউ ও শেয়ারের মাধ্যমে এটি ভাইরাল কনটেন্টে পরিণত হয়। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও সেলিব্রেটিরাও এখন এই সংলাপ ব্যবহার করে নানা ভিডিও তৈরি করছেন।
ঈমান আলী বলেন, আমি আসলে কোনো কবিরাজ নই। এটি ছিল একটি অভিনয়ের চরিত্র। অভিনয়ের মাধ্যমে চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। আমি অনেক আগে থেকেই অভিনয়ের সঙ্গে জড়িত। ভিডিওটি মূলত বিনোদনের উদ্দেশে তৈরি করা হয়েছিল।
Manual7 Ad Code
ভাইরাল হওয়া এই সংলাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার বাড়ি লালমনিরহাট জেলায়। বর্তমানে গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে বসবাস করছি। আমি একদিন ব্যক্তিগত প্রয়োজনে এক কবিরাজের কাছে গিয়ে প্রতারিত হয়েছিলাম। সেখান থেকেই আমার মাথায় একটি ধারণা আসে। ভাবলাম, কবিরাজের চরিত্রে অভিনয় করে যদি একটি ভিডিও বানানো যায়, যেখানে মানুষকে সতর্ক করা যাবে; যেন তারা প্রতারণার শিকার না হন।
ঈমান আলী বলেন, সেই চিন্তা থেকেই ভিডিওটি তৈরি করি। এর আগে আমি অনেক ভিডিও বানিয়েছি কিন্তু সেগুলো তেমন ভাইরাল হয়নি। এই ভিডিওটি এত দ্রুত মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে, তা সত্যিই ভাবিনি।
হঠাৎ করে ভাইরাল হওয়া এই সংলাপ ঘিরে স্থানীয়ভাবেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, দীর্ঘদিন ধরেই ঈমান আলী অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে একটি সংলাপই তাকে দেশজুড়ে নতুন পরিচিতি এনে দিয়েছে।