প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

১৪ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১লা রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

‘বাথরুমে বোনের কাটা মাথা দেখে চিৎকার দিয়ে বাইরে চলে আসি’

editor
প্রকাশিত জুন ৪, ২০২৬, ০৭:৪৭ পূর্বাহ্ণ
‘বাথরুমে বোনের কাটা মাথা দেখে চিৎকার দিয়ে বাইরে চলে আসি’

Manual1 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়েছে। এদিন বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু প্রথমে শুনানি করেন। তিনি প্রথমে আসামি সোহেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা তুলে ধরেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী মামলাটির সকল সাক্ষীর সাক্ষ্য ও তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করেন।

Manual6 Ad Code

একপর্যায়ে তিনি ক্যামেরা ট্রায়ালে সাক্ষ্য দেওয়া রামিসার বড় বোন রাইসা আক্তারের সাক্ষ্য পড়ে শোনান।

রাইসা আক্তার সাক্ষ্যতে আদালতে বলেন, ‘ঘটনার দিন সকালে সাড়ে ৯টার দিকে আমার আম্মু বলার কারণে আমার চাচার বাসায় যাই। ১০ মিনিট পরে আমাদের বাসায় চলে আসি। তখন আম্মু জিঙ্গেস করে, রামিসা কোথায়। আমি বলি আমার সাথে যাইনি।

রামিসা বিভিন্ন সময় বিল্ডিংয়ের নিচে যায় বিড়াল নিয়ে খেলা করতে উল্লেখ করে রাইসা বলেন, নিচে গেছে কিনা আম্মুকে বলি। তখন আম্মু নিচে গিয়ে তাকে খুঁজে পাইনি। এরপর আমার আম্মু আসামি সোহেলের বাসার সামনে আমার বোন রামিসার জুতা দেখতে পায়। কিন্তু ডাকাডাকি করলেও খোলে না। পরে বাবা, আত্মীয়স্বজন ও আশপাশের লোকজন এসে দরজা ভাঙে। ভেতরে ঢুকে যখন বাথরুমে আমার বোনের কাটা মাথা দেখি, তখন আমি চিৎকার দিয়ে বাইরে চলে আসি। পরে জানতে পারি আসামি সোহেল রানা আমার বোনকে ধর্ষণ করেছে।

Manual6 Ad Code

এদিকে বাকি সাক্ষীদের সাক্ষ্যও পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী। বর্তমানে যুক্তিতর্ক শুনানি চলছে। এদিকে যুক্তিতর্ক শুনানিতে তোলার আগে অসুস্থতা অনুভব করেন সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে।

Manual5 Ad Code

জানা যায়, যুক্তিতর্ক শুনানি চলাকালে দুপুর ১টা ২ মিনিটে সোহেল রানাকে মারতে যান স্বপ্না আক্তার। এসময় পুলিশ সদস্যরা তাকে বাধা দেন।

তখন বিচারক বলেন, আপনারা দুজনে নীরবে শোনেন। গতকাল আপনাদের আত্মপক্ষ শুনানিতে আপনাদের বক্তব্য শুনেছি। আজ আপনারা যুক্তিতর্ক শোনেন। না হলে আপনাদের হাজতখানায় পাঠানো হবে। এ সময় স্বপ্না আক্তার অঝোরে কাঁদতে থাকেন।

এর আগে, মঙ্গলবার টানা ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল। ওই দিন ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা ও মা পারভীন আক্তারসহ সাক্ষীদের জবানবন্দিতে ঘটনার লোমহর্ষক তথ্য উঠে আসে।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৪ মে আদালত পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ১ জুন অভিযোগ গঠন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন। তদন্তে ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল রামিসা। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা।

Manual7 Ad Code

এক পর্যায়ে আসামির ঘরের সামনে শিশুটির একটি স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং আশপাশের ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর দেখতে পান সোহেল রানার শোবার ঘরের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ। আর তার মাথা পড়ে রয়েছে বাথরুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহ উদ্ধারের পর স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। গত ২০ মে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১  

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code