নোয়াখালীতে ছাত্রলীগের মিছিলের জবাবদিহি চাইতে গিয়ে হামলার শিকার ছাত্রদল-যুবদল, আহত ৬
নোয়াখালীতে ছাত্রলীগের মিছিলের জবাবদিহি চাইতে গিয়ে হামলার শিকার ছাত্রদল-যুবদল, আহত ৬
editor
প্রকাশিত জুন ৭, ২০২৬, ০৫:১৯ পূর্বাহ্ণ
Manual4 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মিছিলকে কেন্দ্র করে সরকার-দলীয় ছাত্রসংগঠন ছাত্রদল, যুবদল ও শ্রমিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ছাত্রদলের একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। সংঘর্ষে নোয়াখালী শহর শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হৃদয়সহ ছাত্রদল, যুবদলের কমপক্ষে ৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম শুল্লুকিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
Manual6 Ad Code
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার বিকালে উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট এলাকায় ছাত্রলীগের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এন বি এস রাসেলের নেতৃত্বে সেখানে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে ছাত্রদল।
Manual1 Ad Code
ছাত্রদলের মিছিল শেষে তাদের কাছে খবর আসে কালাদরপ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে মিছিল করছেন। খবর পাওয়া-মাত্র তারা সে মিছিলে বাধা দিতে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে সে এলাকায় যাওয়ার পথে কালাদরাপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিমকে তার বাড়ির পাশের একটি দোকানে বসে থাকতে দেখতে পান। এ সময় চেয়ারম্যানের কাছে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ছাত্রলীগের মিছিলের জবাবদিহি চান। এ সময় বাগবিতণ্ডা হয়।
বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে এলাকার মসজিদের মাইকে চেয়ারম্যানের ওপর হামলার কথা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে বিক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও চেয়ারম্যানের সমর্থকরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয় এবং ছাত্রদলের একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। এতে শ্রমিকদল নেতা হৃদয়সহ ৬ জন আহত হন।
Manual5 Ad Code
পরে রাত পৌনে ৮টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে শাহাদাত হোসেন সেলিমের একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেন।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এন বি এস রাসেল বলেন, চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশে ছাত্রলীগের লোকজন মিছিল করার জন্য জড়ো হয়েছিল। খবর পেয়ে ওয়ার্ড ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গেলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। পরে আমরা বাঁধেরহাটের কর্মসূচি শেষে ঘটনাস্থলে গিয়ে নেতাকর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে আনি। হামলায় আমাদের ৬ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়েছে।
Manual7 Ad Code
সুধারাম মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। হামলা, মোটরসাইকেলে ও একটি অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে নির্বাহী আদেশে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা হয়। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে সেই নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখে।