‘অন্তরঙ্গ ভিডিও’ নিয়ে মুখ খুললেন জামায়াত এমপির দ্বিতীয় স্ত্রী
‘অন্তরঙ্গ ভিডিও’ নিয়ে মুখ খুললেন জামায়াত এমপির দ্বিতীয় স্ত্রী
editor
প্রকাশিত জুলাই ২২, ২০২৬, ০৫:২৮ পূর্বাহ্ণ
Manual3 Ad Code
নিউজ ডেস্ক :
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের ‘অন্তরঙ্গ ভিডিও’ ভাইরাল হয়েছে। তবে ভিডিওটি মগবাজারে একটি অফিসের বলে জানিয়েছেন এ সংসদ সদস্য। লিখিত বিবৃতিতে তিনি দাবি করেছেন, মরিয়ম আক্তার নামের ১৮ বছরের ওই তরুণী তার ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’।
Manual4 Ad Code
এ নিয়ে দেশজুড়ে চলা তুমুল আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই মুখ খুলেছেন ওই তরুণী ও তার বাবা। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এক ভিডিওবার্তায় দেন তারা।
বার্তায় মরিয়ম বলেন, ‘আমরা যেটা করেছি সেটা বৈধ, স্বামী-স্ত্রী হিসেবে করছি। আর যেটা (ভিডিও) করা হয়েছে, এটা ষড়যন্ত্র করে কিছু মানুষ হেনস্তা করার জন্য, সম্মানহানি করার জন্য করেছে।’
অন্য ভিডিওবার্তায় মরিয়ম বেগমের বাবা বলেন, ‘গত ১৭ জুন রোজ মঙ্গলবার আমার বড় মেয়ে মরিয়ম আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয়। গত ১৩ জুলাই সেখানে (ভিডিও করার ঘটনাস্থল) এমপি সাহেবকে নিয়ে তার (গাজী নজরুল ইসলাম) প্রথম স্ত্রীসহ আমরা সবাই উপস্থিত ছিলাম। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এটি সামাজিকভাবে হেনস্তা করা ছাড়া আর কিছুই না।’
Manual4 Ad Code
এর আগে সোমবার (২০ জুলাই) রাতে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। যেখানে সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে এক নারীর সঙ্গে ‘অন্তরঙ্গ অবস্থায়’ দেখা যায়।
এ ঘটনায় লিখিত বিবৃতিতে গাজী নজরুল ইসলাম জানান, গত ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথম স্ত্রী মোসাম্মৎ মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তার এবং গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহকে নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর মগবাজারের ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে তারা প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করেন। অবস্থানকালীন সময়ে চালক ওবায়দুল্লাহ সুকৌশলে ৬-৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে ওই কার্যালয়ে প্রবেশের সুযোগ করে দেয়।
Manual3 Ad Code
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ওই অপরিচিত ব্যক্তিরা কক্ষে ঢুকে এমপি ও তার পরিবারের সদস্যদের পরিচয় জানতে চেয়ে হেনস্তা শুরু করে। একপর্যায়ে তাদের নিচে একটি চায়ের দোকানে নিয়ে গিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে কিছু টাকা প্রদান করার পর তারা সেখান থেকে মুক্তি পান।
Manual3 Ad Code
ঘটনার পর গাজী নজরুল ইসলাম জানতে পারেন যে, এই পুরো পরিস্থিতির মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন তার গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ। যিনি সম্পর্কে দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা।
মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর দুলাভাইয়ের পূর্বশত্রুতা ছিল। ঘটনার দিন রাত ১০টার দিকে ওবায়দুল্লাহ এমপির কাছে ৫ লাখ টাকা এবং মাসুম বিল্লাহর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহার করে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার ও পরিবারের ক্ষতি করার হুমকি দেন।
দাবিকৃত টাকা না পেয়ে চালক ওবায়দুল্লাহ অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহার করে একটি বিভ্রান্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। সংসদ সদস্য একে তার এবং স্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি গভীর ষড়যন্ত্র ও ‘চরিত্র হননের অপচেষ্টা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
গাজী নজরুল ইসলাম এই কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি সম্পূর্ণ একটি সাজানো ঘটনা। তিনি এই ষড়যন্ত্রের মূল হোতা চালক ওবায়দুল্লাহসহ জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।