স্টাফ রিপোর্টার:
নেত্রকোণার কলমাকান্দায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভায় সহকারী শিক্ষক স্ত্রীকে চড় মারার অভিযোগে এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল আজম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অভিযুক্ত মো. খুরশেদ আলম পোগলা ইউনিয়নের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তার স্ত্রীও একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
Manual3 Ad Code
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঘটনার ১ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি সামনে আসে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর কলমাকান্দার পোগলা ইউনিয়নের ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সভা চলাকালে প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে সহকারী শিক্ষক খুরশেদ আলমের বাগ্বিতণ্ডার জেরে ওই শিক্ষিকাকে থাপ্পড় মারা হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ১ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে খুরশেদ আলমকে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে উত্তেজিতভাবে কথা বলতে শোনা যায়। এ সময় পাশে বসা তার শিক্ষিকা স্ত্রী তাকে শান্ত হতে বললে খুরশেদ তার উদ্দেশে বলেন, ‘থাপ্পড় দিয়া দাঁত ফালাইয়া দিবো, কথা কস ক্যারে?’ জবাবে শিক্ষিকাকে বলতে শোনা যায়, ‘এখন রাখুন, এটা অফিস।’ এরপর খুরশেদ বলেন, ‘অফিস হইছে দেইখ্খা কী হইছে? আমি কি কেউর কর্মচারী?’ এরপর খুরশেদ শিক্ষিকা স্ত্রীকে থাপ্পড় মেরে বলেন, ‘বাইর হ।’
Manual3 Ad Code
কলমাকান্দা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক খুরশেদ আলমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল আজম বলেন, বিদ্যালয়ের ভেতরে অন্য একজন শিক্ষককে চড় মারা চাকরির বিধিমালা লঙ্ঘন করে অসদাচরণের শামিল।
তিনি বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।’
এ বিষয়ে ওই নারী শিক্ষকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Manual3 Ad Code
অভিযুক্ত শিক্ষক মো. খুরশেদ আলম বলেন, আট বছর ধরে তিনি ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। তার স্ত্রী প্রায় পাঁচ বছর ধরে আছেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি অনুতপ্ত। ঘটনার সময় নিজের রাগ সংযত করতে পারেননি। বিষয়টি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর এখন নিজেও বিব্রত অবস্থায় পড়েছেন। তিনি ও তার স্ত্রী নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাচ্ছেন বলেও তিনি জানান।