শিক্ষিকার টাকা হারানোয় চাল পড়া খাওয়ানো হলো শিক্ষার্থীদের
শিক্ষিকার টাকা হারানোয় চাল পড়া খাওয়ানো হলো শিক্ষার্থীদের
editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৫, ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ
Manual6 Ad Code
Manual8 Ad Code
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
শিক্ষিকার ব্যাগ থেকে টাকা হারিয়ে যাওয়ায় ঝিনাইদহে স্কুল শিক্ষার্থীদের চাল পড়া খাওয়ানোর অভিযোগ উঠেছে। সদর উপজেলার পাইকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
Manual8 Ad Code
গত সোমবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে শিক্ষার্থীদের চাল পড়া খাওয়ানো হলেও দুদিন পর বুধবার ঘটনা জানাজানি হয়। এ নিয়ে অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও অভিভাবকরা জানান, গত সোমবার দুপুরে পাইকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ইমরানা খাতুন তৃপ্তির ব্যাগ থেকে দুই হাজার টাকা হারিয়ে যায়। তিনি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়াগায় টাকা খুঁজতে থাকেন। পরে টাকা না পেয়ে কবিরাজের থেকে চাল পড়া এনে শিক্ষার্থীদের খাওয়ান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, শিক্ষিকার ব্যাগ থেকে টাকা হারিয়ে যাওয়ায় তিনি চাল পড়া নিয়ে আসেন। পরে সেই চাল ছাত্র-ছাত্রীদের খাওয়ানো হয়। কথিত চাল পড়া খেয়ে একজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে।
Manual2 Ad Code
স্থানীয় বাসিন্দা কবির হোসেন জানান, শিক্ষিকা জোরপূর্বক শিক্ষার্থীদের চাল পড়া খাইয়েছেন। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ভয় পেয়ে যায়। অনেকেই ভয়ে স্কুলে যেতে চাইছে না। পরে ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় অভিভাবকরা খোঁজখবর নিতে স্কুলে গেলেও ওই শিক্ষিকাকে পাওয়া যায়নি।
Manual3 Ad Code
শিক্ষিকা ইমরানা খাতুন তৃপ্তি বলেন, আমার টাকা চুরি হয়েছে। অন্য সহকর্মীদের পরামর্শে শিক্ষার্থীদের চাল খাওয়ানো হয়েছে। তবে তা কবিরাজের কাছ থেকে পড়িয়ে আনা হয়নি। সাধারণ চাল খাওয়ানো হয়েছে। যেন শিক্ষার্থীরা সত্যটা বলে দেয়।
পাইকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা ফজিলা পারভীন বলেন, চাল খাওয়ানোর ঘটনা সঠিক, তবে সেটি কবিরাজের কাছ থেকে আনা কিনা জানিনা। আপনি কেন চাল পড়া খাওয়ানো বন্ধ করলেন না এ প্রশ্ন করলে তিনি ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার তাকে ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনন্দ কিশোর সাহা বলেন, এ ধরনের একটি খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।